আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দ্বৈত নাগরিকত্ব সম্পন্ন প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিরুদ্ধে সংবিধান ও সুপ্রিম কোর্টের আদেশ লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। এই বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) বরাবর একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন মামুন হাওলাদার নামে এক সচেতন নাগরিক।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে এ আবেদন জমা দেওয়া হয়। আবেদনে দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণের দাবি জানানো হয়েছে।
আবেদনকারী মামুন হাওলাদার চিঠিতে উল্লেখ করেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৬(২)(গ) অনুচ্ছেদ এবং ১৯৭২ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, কোনো বিদেশি নাগরিক বা দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা ব্যক্তি সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না। সংবিধান অনুযায়ী, বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগের পর একজন ব্যক্তি প্রার্থী হওয়ার যোগ্য হন। তবে হাইকোর্ট বিভাগের ১৬৪৬৩/২০২৩ নম্বর রিট পিটিশনের আদেশের প্রসঙ্গ টেনে আবেদনে বলা হয়, ‘নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন গৃহীত না হওয়া পর্যন্ত আবেদনকারী ব্যক্তি বিদেশি নাগরিক হিসেবেই বিবেচিত হবেন। কেবলমাত্র আবেদন দাখিল করাই নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রমাণ হিসেবে যথেষ্ট নয়। এই আদেশ বর্তমানে আপিল বিভাগেও বহাল রয়েছে।’
আবেদনে অভিযোগ করা হয়, সম্প্রতি আপিল শুনানিতে নির্বাচন কমিশন দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা প্রার্থীদের কাছ থেকে কেবল একটি ‘অঙ্গীকারনামা’ গ্রহণ করছে। যেখানে প্রার্থীরা উল্লেখ করছেন, তারা নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন করেছেন এবং তা প্রক্রিয়াধীন। এই প্রক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে কমিশন তাদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করছে, যা স্পষ্টত সংবিধান এবং হাইকোর্টের রায়ের পরিপন্থি।
মামুন হাওলাদার তার আবেদনে আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচন কমিশন বর্তমানে তাদের দেওয়া আপিল আদেশ পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন গ্রহণ করছে। তার দাবি অনুযায়ী, বর্তমান আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী কমিশনের এ ধরনের পুনর্বিবেচনার কোনো আইনি এখতিয়ার নেই।
এছাড়া সংবিধান, আইন এবং সুপ্রিম কোর্টের আদেশ অনুযায়ী যথাযথ প্রমাণ (নাগরিকত্ব ত্যাগের চূড়ান্ত স্বীকৃতি) ছাড়া দ্বৈত নাগরিকদের মনোনয়নপত্র বাতিল করার জোর দাবি জানানো হয়েছে ওই আবেদনে।
এ বিষয়ে আবেদনকারীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাকিল আহমাদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, বিদেশি নাগরিকত্ব আইনগতভাবে বাতিল না হওয়া পর্যন্ত কেউ সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হতে পারেন না। সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও যদি কেবল ‘প্রক্রিয়াধীন আবেদন’-এর ভিত্তিতে মনোনয়ন বৈধ করা হয়, তাহলে তা শুধু সংবিধান লঙ্ঘন নয়, বরং নির্বাচনী ব্যবস্থার উপর জনগণের আস্থা নষ্ট করার শামিল।
‘নির্বাচন কমিশন কোনোভাবেই সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ঊর্ধ্বে অবস্থান নিতে পারে না।’
তিনি আরও বলেন, আপিলে দেওয়া আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন গ্রহণ করা নির্বাচন কমিশনের আইনগত এখতিয়ারের বাইরে। কমিশন যদি সংবিধান ও আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে সিদ্ধান্ত দেয়, তবে তা সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জযোগ্য হবে এবং ভবিষ্যতে বড় সাংবিধানিক সংকট তৈরি করতে পারে।
আবেদনকারী প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নিকট সংবিধান, প্রচলিত আইন ও সুপ্রিম কোর্টের আদেশ অনুসরণ করে দ্বৈত নাগরিকত্ব সংশ্লিষ্ট সব আপিল ও মনোনয়ন নিষ্পত্তির জন্য জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


