ইরান তাদের নৈতিকতা পুলিশের কার্যক্রম স্থগিত করেছে। দেশটিতে দুই মাসের বিক্ষোভ চলার পর এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দেশটির প্রসিকিউটর জেনারেল এসব তথ্য জানিয়েছেন।
প্রায় দুই মাস আগে ইরানের রাজধানী তেহরানে দেশটির নৈতিকতা পুলিশের একটি ইউনিট কর্তৃক মাহসা আমিনি নামের এক ২২ বছর বয়সী তরুণী গ্রেফতার হন। এরপর পুলিশের নিরাপত্তা হেফাজতে ওই তরুণীর মৃত্যু হয়। নারীদের জন্য ইরানের বাধ্যতামূলক পোষাক কোড মেনে না চলার অভিযোগে মাহসা আমিনি গ্রেফতার হয়েছিলেন।
এই তরুণীর মৃত্যুর পর দেশটিতে হিজাববিরোধী আন্দোলন শুরু হয়, যা বর্তমানে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। এই আন্দোলনে এখন পর্যন্ত ২০০ জন নিহত হয়েছেন বলে দেশটির সরকার স্বীকার করেছে। তবে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা বলেছে, হিজাববিরোধী আন্দোলনে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সহিংসতায় ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
দুই মাসের বিক্ষোভ চলার পর শনিবার ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ জাফর মনতাজেরি বলেছেন, ইরানের নৈতিকতা পুলিশের কার্যক্রম স্থগিত হতে যাচ্ছে। কারণ, বিচার বিভাগের সঙ্গে নৈতিকতা পুলিশ বাহিনীর কোনো সম্পর্ক নেই। এসব কারণে এ বাহিনীকে বিলুপ্ত করা হয়েছে।
তেহরানে ধর্মীয় এক সম্মেলনে একজন অংশগ্রহণকারী ‘কেন নৈতিকতা পুলিশ বাতিল করা হচ্ছে’ জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল ওই মন্তব্য করেন।
ইরানের নৈতিকতা পুলিশ— যা আনুষ্ঠানিকভাবে গাশত-ই এরশাদ বা ‘গাইডেন্স পেট্রোল’ নামে পরিচিত। দেশটির সাবেক কট্টরপন্থী প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদের আমলে ‘শালীনতা এবং হিজাবের সংস্কৃতি’ ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
তবে ইরানের বাধ্যতামূলক পোষাক কোডটি বাতিল করা হবে এমন আইনের কোনো ইঙ্গিত দেয়নি দেশটির সরকার।
সূত্র : আল-জাজিরা


