উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের ২২টি জেলার কয়েক হাজার মানুষ ও যানবাহন বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম মহাসড়ক দিয়ে প্রতিনিয়ত যাতায়াত করে। কিন্তু ঈদ এলেই এ সড়কের ব্যস্ততা বাড়ে কয়েকগুণ। পাশাপাশি যাত্রী ও চালকদের ভোগান্তিও বাড়ে। এছাড়া দুর্ঘটনা, চাঁদাবাজি ও ডাকাতিসহ বিভিন্ন ধরনের নৈরাজ্যের আশঙ্কাও থাকে কয়েকগুণ বেশি।
তাই আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এ মহাসড়কের প্রায় ৫১ কিলোমিটার জুড়ে দুর্ঘটনা ও চাঁদাবাজি রোধসহ শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তৎপরতা বাড়িয়েছে হাইওয়ে ও জেলা পুলিশ।
হাটিকুমরুল হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মহাসড়কে ১০টি মোটরসাইকেল মোবাইল টিম, ১৪টি পয়েন্টে ১৪টি পিকেট টিম, দুটি পিকআপ টিম ও একটি অ্যাম্বুলেন্স টিমসহ মোট ১৪১ জন পুলিশ সদস্য কাজ শুরু করেছেন। সচেতনতায় মাইকিং ও ডিজিটাল সাইনবোর্ড লাগানো হচ্ছে। পাশাপাশি ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ওয়াচ টাওয়ার থেকে সবকিছু মনিটরিং করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্ট পুলিশ অবস্থান নিয়েছে। প্রচণ্ড রোদে কেউ ছাতা হাতে আবার ছাতা বিহীন দাঁড়িয়ে সড়কের গাড়ির দিকে নজদারি করছেন।
বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম কড্ডার মোড় এলাকায় দায়িত্বরত উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হোসাইন বলেন, বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিমে এখন পর্যন্ত কোনো যানজট সৃষ্টি হয়নি। তবে কাল থেকে পরিবহনের চাপ বাড়বে।
হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বদরুল কবীর বলেন, ঈদযাত্রা নিরাপদ করতে মহাসড়কে তিন চাকার যানবাহন চলাচলে তদারকি করছে হাইওয়ে পুলিশ। পাশাপাশি জেলা পুলিশও কাজ করছে। মহাসড়কে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি, নিবন্ধনবিহীন গাড়ি চালানো এবং লাইসেন্স ও হেলমেটবিহীন মোটরসাইকেল চালানোসহ বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে নিয়মিত মামলাও করা হচ্ছে।
সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দিদারুল আলম তরফদার বলেন, ঈদে বাড়ি ফেরা যাত্রীদের যেন ভোগান্তি না হয়। এজন্য ঝুঁকিপূর্ণ ১৪টি স্থান মেরামত করা হয়েছে। আশা করা যায় সমস্যা হবে না।
সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার (এসপি) আরিফুর রহমান মন্ডল বলেন, ঈদ ঘিরে মহাসড়কে যেকোনো ধরনের নৈরাজ্য বন্ধ এবং যানজটমুক্ত রাখতে জেলা পুলিশের সাড়ে ৬০০ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।


