ভারতীয় জাতীয় ক্রিকেট দলের উইকেটরক্ষক ব্যাটার ঋষভ পান্থ গত ৩০ ডিসেম্বর (শুক্রবার) গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। এতে মারাত্মকভাবে আহত হন তিনি। উত্তরাখন্ডের রুরকিতে নিজের বাড়িতে ফেরার সময় দুর্ঘটনার শিকার হন এই বাঁহাতি ব্যাটার।
বর্তমানে দেহরাদুনের একটি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন পান্থ। চিকিৎসায় সাড়া মিলছে ভালই, ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার। এমনটাই জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তারা আরও জানায়, ঋষভের কপালে যে গভীর ক্ষত ছিল, সেখানে প্লাস্টিক সার্জারি করানো হয়েছে।
দুর্ঘটনার পরপরই পান্থকে উদ্ধার করে প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় রুরকির একটি হাসপাতালে। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর স্থানান্তর করা হয় দেহরাদুনের ম্যাক্স হাসপাতালে। বর্তমানে সেই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। গুঞ্জন উঠেছিল, এয়ারলিফ্ট করে ঋষভকে দিল্লিতে পাঠানো হচ্ছে। তবে শনিবার হাসপাতালের পক্ষ থেকে সেই তথ্যকে উড়িয়ে দেওয়া হয়। শনিবার দিল্লি অ্যান্ড ডিস্ট্রিক ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন বা ডিডিসিএ-র তরফে একটি প্রতিনিধি দল পাঠানো হয় দেহরাদুনের হাসপাতালে। তারাই জানিয়েছেন, বর্তমানে বেশ ভাল রয়েছেন ঋষভ পান্থ।
ডিডিসিএ-র ডিরেক্টর শ্যাম শর্মা জানান, ‘ঋষভ পান্থের কপালে ছোট প্লাস্টিক সার্জারি হয়েছে। ডিডিসিএ-র ৩ সদস্য ইতিমধ্যেই দেহরাদুনে পৌঁছেছেন। বিসিসিআইয়ের তরফেও ক্রমাগত ম্যাক্স হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। ঋষভের পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। বর্তমানে সে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে ও সম্পূর্ণরূপে সঙ্কটমুক্ত। দিল্লিতে তাকে স্থানান্তরিত করা হবে কিনা, তা নিয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।’
গতকাল (শনিবার) পান্থের পরিবারের এক সদস্য জানান, পান্থের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। আপাতত অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার কোনো পরিকল্পনা নেই। শনিবার তার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। এরপর থেকেই শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে ধীরে ধীরে। হাসপাতালের পক্ষ থেকেও তার চিকিৎসার জন্য বিশেষ চিকিৎসক দল গঠন করা হয়েছে।
গত ৩০ ডিসেম্বর উত্তরাখণ্ড থেকে রুরকিতে মায়ের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলেন পান্থ। যাওয়ার পথে ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ দিল্লি-দেহরাদুন হাইওয়ে দিয়ে পান্থ যখন গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলেন, সেই সময়ই তার মার্সিডিজ গাড়িটি ডিভাইডারে সঙ্গে ধাক্কা খায়। এরপর তাতে আগুন লেগে যায়। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের জানিয়েছে, গাড়ি চালাতে চালাতে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন ঋষভ পান্থ। এই জন্যই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।


