
আর মাত্র তিন দিন পরই সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচন। নির্বাচনে আটজন মেয়র প্রার্থী থাকলেও এতদিন মূল আলোচনায় ছিলেন তিনজন। তবে গত সোমবার (১২ জুন) ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ভোট বর্জন করায় এবার ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাবুলের মাঝে।
নির্বাচনের শুরুতে মেয়র প্রার্থী আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী ও নজরুল ইসলাম বাবুল বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সমালোচনায় বেশ মুখর ছিলেন। এখন সেখান থেকে সরে উল্টো আরিফের প্রশংসা করছেন তারা। নির্বাচিত হলে আরিফের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্তেরও প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন প্রার্থীরা
সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দে আগেই প্রচারণায় নামেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী ও জাতীয় পার্টির নজরুল ইসলাম বাবুল। প্রচারের শুরুতে এই দুই প্রার্থী একজোট হয়ে বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সমালোচনা করেন। আরিফের অপরিকল্পিত কাজের জন্য সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ নগরবাসীর কোনো উপকারে আসেনি বলে দাবি করেন তারা।
এছাড়া আরিফের বিরুদ্ধে উন্নয়ন কাজে অনিয়ম ও লুটপাটের অভিযোগ তুলেন আনোয়ার-বাবুল। প্রকাশ্যে বক্তৃতা-বিবৃতিতে তারা আরিফুল হক চৌধুরীকে টার্গেট করে এমন অভিযোগ করেন।
ঢাকা থেকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারাও সিলেট এসে অপরিকল্পিত উন্নয়নের অভিযোগ করেন আরিফের বিরুদ্ধে। কিন্তু আরিফুল হক চৌধুরী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার ঘোষণা দেওয়ার পর পাল্টাতে থাকে দৃশ্যপট। একই দিনে আরিফের বাসায় ছুটে যান আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী ও নজরুল ইসলাম বাবুল। নির্বাচনে সহযোগিতা চান তার। আরিফের ভোট ব্যাংক নিজেদের দখলে নিতে মেয়র প্রার্থীরা নানাভাবে চেষ্টা শুরু করেন।
আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে নজরুল ইসলাম বাবুলের সখ্য অনেক পুরনো। তাই শেষ মুহূর্তে আরিফের গোপন ইঙ্গিতের আশা করছেন তিনি। আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীকে ধরাশায়ী করতে আরিফ তার সমর্থক-শুভাকাঙ্ক্ষীদের গোপন নির্দেশ দিতে পারেন এমন আশা করছেন বাবুল। এজন্য তিনি আরিফের সমালোচনা থেকে সরে এসেছেন।
55
এদিকে আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীকেও এখন আগের মতো আরিফের কঠোর সমালোচনা করতে দেখা যাচ্ছে না। মেয়র নির্বাচিত হলে মাস্টারপ্ল্যানের মাধ্যমে পরিকল্পিত নগরী গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সূত্র জানিয়েছে, আনোয়ারুজ্জামানও চাইছেন না আরিফের বিরাগভাজন হতে। আরিফ যাতে কোনো অবস্থায়ই বাবুলের পক্ষাবলম্বন না করেন সেটাই চাইছেন আনোয়ার।
এদিকে, নজরুল ইসলাম বাবুল প্রচারণার শুরুতে নির্বাচনি পরিবেশ ও ইভিএম নিয়ে বেশ সন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। প্রচারণায় সরকার ও প্রধানমন্ত্রীরও প্রশংসা করেন তিনি। কিন্তু নির্বাচন ঘনিয়ে আসতেই তিনি কৌশল পাল্টে সমালোচনামুখর হয়ে উঠেছেন। সরকারবিরোধী ভোট টানতে তিনি প্রচারণায় সরকারের সমালোচনা করছেন। সরকারের অনিয়ম দুর্নীতির প্রতিবাদস্বরূপ মানুষ লাঙ্গলে ভোট দেবে- প্রচারণায় এমন বক্তৃতাও দিচ্ছেন। ইভিএম নিয়ে শুরুতে সন্তুষ্ট থাকলেও এখন বলছেন সংশয়ের কথা। ইভিএমের সঙ্গে ভোটারদের পরিচয় না থাকা এবং সঠিকভাবে ভোট গণনা নিয়ে তার সংশয়ের কথা প্রতিদিনই বলে যাচ্ছেন।
আগামী ২১ জুন সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপি ভোট বর্জন করায় এই নির্বাচন অনেকটা প্রতিদ্বন্দ্বিতার আমেজ হারিয়েছে।


