খুলনা (০৭ মার্চ)
খুলনার উপকূলীয় অঞ্চল কয়রা উপজেলার তরমুজ চাষ ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক – কৃষানীরা। কেউ বীজতলা প্রস্তুত করছেন, কেউ কেউ রোপন করছেন, আবার কেউ কেউ পানি শেষ দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন, দম ফেলার সময় নেই তাদের। তবে সার, কীটনাশক, ও সোরবেক এর দাম বৃদ্ধি নিয়ে চিন্তিত তারা। গত বছরের তরমুজ চাষে কৃষকদের লকসান হওয়ায় এবার তরমুজ চাষের আবাদ কম হচ্ছে। কৃষকরা বলছে গতবছরের তরমুজ ক্ষতি কিছুটা কাটিয়ে উঠবেন তারা। এছাড়া তরমুজ মৌসুমে ক্ষেতগুলোতে এলাকা শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ মিলে এতে খুশি স্থানীয় শ্রমিকরা
কয়রা উপজেলা কৃষি অফিস সূএে জানা গেছে,এবার চলতি মৌসুমে ২৬০০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষের আবাদ করা হয়েছে। ক্ষেত গুলোতে হাইব্রিড জাত, এবং উচ্চ ফলনশীল উফশি জাতের তরমুজ আবাদ করা হয়েছে।
চটকাতলা বিলের কৃষক সুজন বলেন, আমি ৮ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করিতেছি। কিন্তু উপ সহকারী কৃষি অফিসার আমাদের বিলে কোন দিন ও আসেনি। তিনি আরও বলেন, কৃষি অফিসার বিলে এসে আমাদের পরমর্শ দিলে আমাদের ফলন আরও ভালো হবে।
চন্ডিপুর বিলে কৃষক, মিঠুন সরকার বলেন, আমি এ বছর ১২ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করিতেছি। তরমুজ গাছের চারা বের হয়েছে এখন পরিচর্যা করতেছি। আবহাওয়া ভালো হলে বাম্পার ফলন হবে। চন্ডিপুর বিলের কৃষক অপূর্ব সানা বলেন, আমি লিজ নিয়ে এবছর ৮ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করিতেছি। বিঘাপ্রতি ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা খরচ হবে। ফলন বাম্পার হলে বিঘা প্রতি লক্ষ টাকা বিক্রি করতে পারবো। একই বিলের কৃষক লিংকন বলেন আমি আমার নিজস্ব ৩ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করিতেছি। চারা বের হয়েছে এখন পরিচর্যা করিতেছি। আবহাওয়া ভালো থাকলে বাম্পার ফলন হবে। চটকা তলা বিলের কৃষক সেলিম হোসেন বলেন, আমি হারি নিয়ে ৩০ বিঘা জমিতে তরমুজ লাগাচ্ছি গতবার তরমুজ চাষে লাভবান হয়েছিলাম। বিথা প্রতি ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়। তরমুজ বিঘা প্রতি লক্ষ্য টাকা বিক্রি করতে পারবো।
কয়রা উপজেলা কৃষি অফিসার তিলোক কুমার ঘোষ বলেন, তরমুজ একটি লাভজনক ফসল। আবহাওয়া শেষ পর্যন্ত অনুকূলে থাকলে এবছর তরমুজের বাম্পার ফলন হবে । তিনি আরও বলেন, উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ রাত দিন পরিশ্রম করে সকল কৃষকদের পরমর্শ দিচ্ছে এবং সবসময় তাদের পাশে আছে।


