সকাল থেকেই কর্মচাঞ্চল্য হয়ে উঠেছে রাজধানী। নতুন সময়-সূচি অনুযায়ী অফিস-কার্যালয়ে পৌঁছাতে যে-যার মতো ব্যস্ত।
বুধবার (২৪ আগস্ট) সকাল ৭টা থেকে রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে প্রচণ্ড যানজট শুরু হয়েছে। গণপরিবহনের অপেক্ষায় প্রধান সড়কের পাশে অফিসগামী অনেক যাত্রীদের অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।
রাজধানীর উত্তরা আব্দুল্লাহপুর হয়ে আজমপুর, জসিমউদ্দিন মোড় থেকে বিমানবন্দর সড়কে। খিলক্ষেত থেকে বিশ্বরোড হয়ে রেডিসনের সামনে দিয়ে বনানী-কাকুলী হয়ে মহাখালী পর্যন্ত সড়কে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। এদিকে মোহাম্মদপুর থেকে বিজয় সরণি, ফার্মগেট-কারওয়ানবাজার হয়ে বাংলামোটর, শাহবাগ এলাকায়ও যানবাহনের চাপ দেখা গেছে।
খিলক্ষেত থেকে কুড়িল হয়ে নতুন বাজার, বাড্ডা হয়ে রামপুরা-মালিবাগ পর্যন্ত, যাত্রাবাড়ী থেকে সায়েদাবাদ গুলিস্তান ও মতিঝিল এলাকায়ও সকাল থেকেই যানবাহনের প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় এবং যানজট নিরসনে আজ থেকে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত অফিস, আদালত, ব্যাংক নতুন সময়-সূচিতে শুরু হয়েছে। সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত অফিসগুলো সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত, ব্যাংকগুলো ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চালু রাখা হবে। তবে লেনদেন বিকেল ৩টা পর্যন্ত। এ কারণেই দিনের প্রথম প্রহরে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়েছেন অফিসগামী যাত্রীরা।
মোহাম্মদ ফিরোজ জনি বেসরকারি একটি ব্যাংকে সিনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি উত্তরায় তার বাসা থেকে সকালেই বের হয়েছেন সঠিক সময় ব্যাংকে পৌঁছাতে।
তিনি বলেন, এত দিন এক সময়-সূচিতে অফিস করেছি। আজ থেকে নতুন সময়-সূচিতে অফিস করবো। আজ প্রথম দিন বলে সময়টা একটু অন্য রকম লাগছে। তবে আশা করি, এটাও অভ্যাসে পরিণত হয়ে যাবে। অফিস যে টাইমেই শুরু হোক। সড়কে যানজট হচ্ছেই। তবে অন্যদিনের চেয়ে আরেকটু আরামে অফিসে যাচ্ছি। কারণ সকালের ঠাণ্ডা বাতাস গায়ে লাগছে। রোদের তাপ বাড়ার আগেই অফিসে পৌঁছে যাচ্ছি। এদিকে আরমান নামে এক বাসযাত্রী বলেন, সকালে ঘুম থেকে উঠতেই অনেক কষ্ট হয়। তার ওপর অফিস এক ঘণ্টা আগে শুরু হবে। আবার বিকেলেই ছুটি একটু আগে বাসায় ফেরা যাবে। নতুন সময়সূচি হওয়া একটু ভালোই লাগছে। এতে বিদ্যুৎ, জ্বালানির সাশ্রয় হলেও সড়কের যানজট কমবে বলে মনে হয় না। কারণ রাজধানীতে পর্যাপ্ত পরিমাণ সড়ক নেই। আবার মানুষের বসবাস অনেক বেশি। সড়কের তুলনায় দেখেই যানবাহন অনেক বেশি। এদিকে মূল সড়কগুলো প্রশস্ত হলেও বেশিভাগ সড়কই সরু।
ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্বরত সদস্যরা বলছেন, সড়কে কেউ নিয়ম মেনে গাড়ি চালায় না। মোটরসাইকেল চালকরা এখন কিছুটা নিয়ম মানতে শুরু করেছে। এখন তারা হেলমেট পতে শুরু করেছে, গাড়ির প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও সঙ্গে রাখছে। এছাড়াও অধিকাংশ চালক স্বাভাবিকভাবে মোটরসাইকেল চালায়। তবে আগে যাওয়ার প্রবণতা কারোই কমেনি।
গণপরিবহনগুলো সড়কের মাঝে দাঁড়িয়ে থেকেই যাত্রী ওঠা-নামানো করছেন। বাস চালকরা কে কার আগে যাবে সেই প্রতিযোগিতায় মেতে থাকে। সড়কে চলাচলকারী যাত্রী ও পথচারীসহ যানবাহন চালকদের সবাইকে ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে। তবেই সড়কে যানজট নিরসন করা সম্ভব।
সম্প্রতি বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে তেলের দাম বাড়ানো এবং কৃচ্ছতা সাধনের জন্য অফিস সময় কমানোর উদ্যোগ নেয় সরকার। বর্তমানে সরকারি এবং স্বায়ত্তশাসিত অফিসগুলো সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অফিস সময় নির্ধারিত আছে। তবে রমজান মাসে অফিস সময় থাকে সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত।
এদিকে উচ্চ আদালত এবং নিম্ন আদালতের জন্যও নতুন সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। রোববার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর ২টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত হাইকোর্টের কার্যক্রম চলবে। তবে ১২টা ৪৫ থেকে দেড়টা পর্যন্ত বিরতি থাকবে। অফিসের সময় রোববার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত চলবে। বিরতি ১২টা ৪৫ মিনিট থেকে দেড়টা পর্যন্ত।
অধস্তন আদালতে রোববার থেকে বৃহস্পতিবার সাড়ে ৮টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত কোর্টের কার্যক্রম চলবে। তবে ১২টা ৪৫ থেকে দেড়টা পর্যন্ত বিরতি থাকবে। অফিসের সময় রোববার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত চলবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এতে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে এবং সঙ্গে সঙ্গে ট্রাফিক জ্যামও একটা ডিস্ট্রিবিউটেড হবে। অফিস সময় কমানোর পাশাপাশি সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি দুই দিন করা হয়েছে।
পিএসএন/এমআই


