১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ, মিল-কলকারখানা চালু, নারী ও যুবকদের কর্মসংস্থানের উপর গুরুত্বারোপ
খুলনা (০২ ফেব্রুয়ারী)
একটি রাজনৈতিক দলকে মিথ্যাবাদী আখ্যা দিয়ে বিএনপির চেয়াম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ওই রাজনৈতিক দলটি নারীদেরকে সম্মান করতে জানেনা। যাদের নেতা আজ বাংলাদেশের নারীদেরকে একটি খারাপ কিছুর সাথে তুলনা করেছেন, তারা বলে তারা ইসলাম কায়েম করবে। ধর্ম ব্যবসায়ীদের কাছে দেশের নারীরা নিরাপদ নয়; এদেশের মানুষ নিরাপদ নয়। যারা দেশের নারী সমাজকে হেয় প্রতিপন্ন করছে, এরাই আবার নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। বিএনপি কাজ করে শুধুমাত্র দেশকে পুনর্গঠনের জন্য। দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলে সবাইকে নিয়ে এই দেশকে পুনর্গঠন করবো।
আজ সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে খুলনার খালিশপুর প্রভাতী স্কুল মাঠে নির্বাচনী জনসভায় প্রথান অতিথির বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন।
তারেক রহমান ওই রাজনৈতিক দলকে উদ্দেশ্য করে আরো বলেন, বাংলাদেশের অর্ধেক নারী গোষ্ঠীকে তাদের সম্পর্কে আমরা দেখেছি, কিভাবে তাদের ঘরের মধ্যে আটকে রাখতে চায় সেই কথা তারা বলেছে। আমরা দেখেছি, একটি রাজনৈতিক দলের একজন নেতা পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছে যে, তারা কোনোভাবেই নারীর নেতৃত্বে বিশ্বাস করে না। আমরা দেখেছি, একটি রাজনৈতিক দলের নেতা পরিষ্কারভাবে যদি নারীকে বলেছে যে, যেসব মহিলা, যেসব মা-বোনেরা কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে কর্মসংস্থানের জন্য চান, তাদেরকে ‘প্রিয় ভাই-বোনেরা, আপনাদের সামনে আমার বলতে দিতে একটু লজ্জা হচ্ছে (!) এমন একটি শব্দ সে আমাদের মা-বোনদের জন্য ব্যবহার করেছে, যা এদেশের জন্য একটি কলঙ্কস্বরূপ।
তিনি বলেন, এই বাংলাদেশে খেটে খাওয়া মানুষের পরিবারের অধিকাংশ নারী কোনো না কোনোভাবে সংসারের উপার্জনের জন্য কাজ করে থাকে। এই বাংলাদেশে পঞ্চাশ লক্ষের উপরে নারী আজ যেই গার্মেন্ট শিল্প নিয়ে সকলে গৌরব করে, সেই গার্মেন্ট শিল্পে নারী শ্রমিকরা কাজ করেন। সেটি নিম্ন মধ্যবিত্ত হোক, মধ্যবিত্ত হোক, সকল পরিবারের কর্মজীবী পরিবারের প্রায় সকল নারী আজ সংসার পরিচালনার জন্য কাজ করছে। বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের যে ঊর্ধ্বগতি, সকল জিনিসের দাম ঊর্ধ্বগতি, তার জন্য শুধু স্বামী একার কর্মসংস্থান হয় না।
তিনি বলেন, তাদেরকে বিভিন্নভাবে কাজ করতে হয় এবং তারা এর মাধ্যমে তাদের সংসার জীবন নির্বাহ করে থাকে। কিন্তু আজ আমরা দেখেছি, একটি রাজনৈতিক দলের নেতা পরিষ্কারভাবে নারীদেরকে কিভাবে অসম্মানিত করেছে, তাদেরকে খারাপ ভাষায় অসম্মানিত করেছে। অথচ আমাদের নবী, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যে স্ত্রী ছিলেন বিবি খাদিজা তিনি একজন ছিলেন একজন কর্মমুখী মহিলা। উনি ছিলেন একজন মহিলা ব্যবসায়ী।
তারেক রহমান আরো বলেন, আজকে যেই দল, যাদের নেতা আজ বাংলাদেশের নারীদেরকে একটি খারাপ কিছুর সাথে তুলনা করেছেন, তারা বলে তারা ইসলাম কায়েম করবে, কিন্তু নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রী, উনিও পর্যন্ত একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। তাহলে আজকে কোথায় গিয়ে দাঁড়ালো বাংলাদেশের নারী সমাজ, নারী সমাজকে কিভাবে অপমান করা হলো?
যে দলটি নির্বাচনের আগে দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে ঘরের মধ্যে বন্দী করতে চায়। যে দলই নির্বাচনের আগে দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে অসম্মানজনকভাবে কথা বলে। তাহলে আপনাদের কাছে আমার প্রশ্ন, আজকে নির্বাচনে যদি তারা কোনোভাবে সুযোগ পায়, নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে তাহলে তাদের আচরণ কি হতে পারে? কাজেই প্রিয় ভাই-বোনেরা, এরা শুধুমাত্র নিজের স্বার্থের কথা বোঝে। এরা ধর্মকে ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য। যেখানে প্রয়োজন, সেখানে তারা তাদের মতন করে ধর্মকে ব্যবহার করে।
তারেক রহমান বলেন, আমরা গতকাল দেখেছি, যখন এই কথা বলার পরেই তীব্র সমালোচনা শুরু হলো নারী সমাজ থেকে। যখন এই কথা বলার পরেই তীব্র সমালোচনা শুরু সমাজের প্রত্যেকটি মানুষের কাছ থেকে, তখন তারা বলছে তাদের এই আইডি নাকি হ্যাক হয়ে গিয়েছে। আইডি হ্যাক হয়ে গিয়েছিল। প্রিয় ভাই-বোনেরা, এই বিষয়ে যারা বিশেষজ্ঞ, তারা পরিষ্কারভাবে বিভিন্নভাবে বলেছে যে, আইডি এইভাবে হ্যাক হতে পারে না। একটি রাজনৈতিক দলের একজন সিনিয়র নেতা জনগণের সামনে নির্বাচনের আগে এইভাবে মিথ্যা কথা বলছে। তারা কি পর্যন্ত মিথ্যা কথা বলছে? তাদের আইডি বলে হ্যাক হয়ে গেছিল। অথচ আইডি হ্যাক হয়নি তাদের। কাজেই এরা নির্বাচনের আগে নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য মানুষের সামনে মিথ্যা কথা তুলে ধরছে। মিথ্যা কথা তারা বলছে। এদের একটাই পরিচয়, এরা মিথ্যাবাদী, এরা নিজেদের প্রয়োজনে, নিজেদের স্বার্থে নানা মিথ্যা কথা বলে। যারা মিথ্যা কথা বলে, হাজার লক্ষ কোটি মানুষের সামনে যারা মিথ্যা কথা বলে।
তিনি বলেন, যারা ক্ষমতার মোহে পড়ে মিথ্যা কথা বলে। এরা আর যাই হোক, এরা দেশ দরদী হতে পারে না। এরা আর যাই হোক, এরা কখনো মানুষের দরদী হতে পারে না। এরা আর যাই হোক, এরা কখনো জন দরদী হতে পারে না। এদের জন্ম শুধু এদের নিজেদের লক্ষ্যের জন্য।
তারেক রহমান আরো বলেন আমরা বিশ্বাস করি, দেশ তো পশ্চাৎপূঞ্জরি নয়, বরং দেশকে আমাদেরকে সামনের দিকে নিতে হবে ভবিষ্যতে। আমরা বিগত ১৫, ১৬ বছর বহু আন্দোলন করেছি, বহু সংগ্রাম করেছি। এবং এর ভিতরে আমাদের বহু নেতা কর্মী গুম, খুন, হত্যার শিকার হয়েছেন। বহু হাজার হাজার, লক্ষ লক্ষ নেতা কর্মী বিএনপির বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী গায়েবি মামলার অত্যাচার, নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তারপরেও বাংলাদেশের মানুষ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে দল, মত নির্বিশেষে সকলে রাজপথে নেমে এসে বাংলাদেশের স্বৈরাচারকে এই দেশ থেকে বিদায় করেছিল।
তিনি বলেন, বিগত ১৬ বছর ধরে বাংলাদেশের মানুষ তার রাজনৈতিক অর্থাৎ ভোটের অধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। বাংলাদেশের মানুষ বিগত ১৬ বছর ধরে তার মতামতের ভিত্তিতে, তার প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারেনি। শুধু সে ক্ষেত্রে জাতীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে নয়, এমনকি স্থানীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা দেখা গিয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ গত ১৬ বছর ধরে স্বৈরাচার সময়ে তাদের মনের অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে পারেনি। সেগুলির উপর হামলা করার চেষ্টা করা হয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, আমরা দেখেছি কিভাবে রাতের আঁধারে তুলে নেওয়া হয়েছে, গুম করা হয়েছে, খুন করা হয়েছিল। আজ সময় এসেছে। আজ বাংলাদেশের মানুষ তার দাবি আদায়ের জন্য আজ অবস্থান গ্রহণ করেছে এবং ইনশাল্লাহ বাংলাদেশের মানুষ যে অধিকার থেকে কত বছর বেশি সময় ধরে বঞ্চিত করে রাখা হয়েছিল, সেই অধিকার প্রয়োগ করবে।
তিনি আরো বলেন, আমরা বিশ্বাস করি যে, একটি রাজনৈতিক দল হিসাবে যেহেতু অতীতেও আমাদের রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা বা দায়িত্বে আমরা ছিলাম, সেহেতু ইনশাল্লাহ আগামী দিনে বাংলাদেশের মানুষের সমর্থনে আল্লাহ তায়ালার রহমতে যদি সরকার গঠন করি, ইনশাল্লাহ আমাদের প্রথম দায়িত্ব হচ্ছে দেশকে পুনর্গঠন করা। তাই দেশকে যদি পুনর্গঠন করতে হয়, তাহলে দেশের দল, মত, নির্বিশেষে, শ্রেণি, পেশা নির্বিশেষে সকল মানুষকে নিয়ে আমাদের দেশকে পুনর্গঠন করতে হবে। শুধু যেকোনো এক ধরনের মানুষকে নিয়ে দেশ কখনো পুনর্গঠন করা যায় না। হয়তো অন্য কাজ করা যায়, কিন্তু দেশ পুনর্গঠন করা যায় না।
নারীদের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, এই দেশের জনসংখ্যা প্রায় ২০ কোটি। এই ২০ কোটির মধ্যে অন্তত ১০ কোটি জনসংখ্যা হচ্ছে এই দেশের নারী সমাজ। অর্থাৎ জনসংখ্যার অর্ধেক হচ্ছে এই দেশের নারী সমাজ। এই নারী সমাজকে যদি আমরা পিছনে রেখে যত পরিকল্পনা গ্রহণ করি না কেন, অথবা যতই বড় বড় কথা আমরা বলি না কেন, কোনোভাবেই সম্ভব নয় দেশকে সামনে নিয়ে যাওয়া, কোনোভাবেই সম্ভব নয় দেশকে পুনর্গঠন করা।
তিনি বলেন, সে জন্যই বেগম খালেদা জিয়া যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, তিনি মেয়েদের শিক্ষা ব্যবস্থা, স্কুল থেকে শুরু করে ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন, যাতে করে এই বিশাল জনশক্তি, যাতে করে এই বিশাল জনগোষ্ঠীর অর্থাৎ নারী সমাজের শিক্ষার আলোয় আলোকিত হয় এবং তারা যাতে নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে পারে।
তারেক রহমান বলেন, আপনাদের দোয়া, আল্লাহর রহমতে বিএনপি সরকার গঠন করলে বাংলাদেশের প্রত্যেকটি পরিবারের কাছে, প্রত্যেকটি মায়ের কাছে আমরা ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেবো। যেই ফ্যামিলি কার্ড এর মাধ্যমে আমরা দেশের নারী সমাজকে ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে চাই, যাতে করে এই নারী সমাজ কারো প্রতি মুখাপেক্ষী হয়ে না থাকতে হয়। যাতে করে তারা নিজের পায়ে নিজেরাই দাঁড়িয়ে যেতে পারে।
তিনি বলেন, আজকে বাংলাদেশের মা-বোনদেরকে বলব- যারা আপনাদেরকে এভাবে অপমানিত করে, তাদেরকে আপনারা কিভাবে জবাব দিবেন, আজ সেই সিদ্ধান্ত নেবার সময় এসেছে। একটু ঠান্ডা চিন্তা করে দেখুন, তাদের দলেও কিন্তু নারী কর্মী আছে। আর তাদের দলের নারী কর্মীদের কাছে আমাদের প্রশ্ন, আপনারা তো ঘর থেকে বের হয়ে দলের কাজে যাচ্ছেন, তো, ঘর থেকে বের হয়ে যে নারী কাজে যায়, তাদের নেতা কিসের সাথে তুলনা করেছে? চিন্তা করে দেখুন। তাহলে আমাদের প্রশ্ন, ওই দলের যারা নারী সদস্য আছে, তাহলে তাদের প্রকৃতি পরিচয় কি?
তারেক রহমান বলেন, যেই দলের নেতা নিজের দলের নারী কর্মীদেরকে এইভাবে অপদস্ত, অপমানিত করে, সেই দলের নেতা যদি সুযোগ পায়, তাহলে বাংলাদেশের সাধারণ নারীদেরকে, সাধারণ মা-বোনদেরকে তারা কিভাবে অপদস্ত, অপমানিত করবে? যার অবশ্য উদাহরণ আমরা ১৯৭১ সালেই দেখেছিলাম। এই দেশের লক্ষ লক্ষ মা-বোনদেরকে অসম্মানিত করেছিল এই দলটির সৈনিকবৃন্দ। কাজেই যাদের কাছে মানুষের কোনো মূল্যায়ন নেই, যাদের কাছে মানুষের কোনো আত্মসম্মানবোধ নেই, তাদের কাছে কখনো দেশ নিরাপদ হতে পারে না। তাদের কাছে কখনো দেশের মানুষ নিরাপদ হতে পারে না।
অবহেলিত খুলনার উন্নয়ন কর্মকান্ড তুলে ধরে তিনি বলেন, আজ এই খুলনা সহ সাতক্ষীরা, বাগেরহাটসহ এই বিশাল অঞ্চলে আজ বহু সমস্যা আছে। যেমন, এই খুলনা ছিলো একসময় শিল্পনগরী। কিন্তু আমরা দেখছি গ্যাসসহ বিভিন্ন কারণে আজ এই শিল্পনগরী প্রায় মৃত নগরীতে পরিণত হয়েছে আমরা চাই, আমরা চাই, ইনশাআল্লাহ, আগামী ১৩ তারিখে সরকার গঠন করলে এই শিল্প নগরীকে আবার জীবিত শিল্প নগরীতে আমরা পরিণত করতে চাই, যাতে করে সেই সব শিল্পের মধ্যে শুধু পুরুষরাই নয়, সেই সব শিল্পের মধ্যে যাতে নারীদেরও কর্মসংস্থান হয়, সেভাবে আমরা এই অঞ্চলের শিল্প নগরীকে গড়ে তুলতে চাই।
তিনি বলেন, আমরা এখানকার তরুণ সমাজের সদস্য যারা আছে, যুব সমাজের সদস্য যারা আছে, বিশেষ করে যারা আইটিতে কাজ করেন, তাদের জন্য এখানে গড়তে তুলতে চাই আইটি পার্ক সহ আরো ফ্যাসিলিটি। যার মাধ্যমে তারা তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারবে।
তারেক রহমান বলেন, কৃষি এমন একটি পেশা যা সারা বাংলাদেশের গ্রাম-গঞ্জে ছড়িয়ে আছে। এই খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা-এই তিন জেলার মধ্যে আমাদের লক্ষ কোটি কৃষক রয়ে গিয়েছে। কিন্তু এই কৃষক ভাইয়েরা বিভিন্ন রকম সমস্যার মধ্যে রয়েছে। আমরা সেই জন্য কৃষক ভাইদের কাছেও কৃষি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। শুধু কৃষি কার্ড না, এই কৃষি কার্ডের মাধ্যমে যেমন তার ঋণ পেতে সুবিধা হবে, এই কৃষি কার্ডের মাধ্যমে সেই কৃষক ভাইয়ের হাতে আমরা যেমন প্রয়োজনীয় কীটনাশক, বীজ, সার পৌঁছে দেবো, একই ভাবে আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি।
তিনি বলেন, যে সকল কৃষক ভাইদের বর্তমানে এই মুহূর্তে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ আছে, সেই ঋণ ইনশাআল্লাহ সুদসহ আমরা মৌকুফ করবো। দেশকে গড়ার সময় হয়েছে। দেশকে আমাদের পুনর্গঠন করতে হবে। এই যে লক্ষ মানুষ আজ এখানে উপস্থিত হয়েছেন, এই দেশ যদি ঠিক থাকে, এই দেশকে যদি আমরা পুনর্গঠন করতে পারি, দেশের বেকারদের কর্মসংস্থান করতে পারি, দেশের নারীদেরকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে পারি, দেশের শিক্ষার্থীদের সঠিক শিক্ষার ব্যবস্থা আমরা তৈরি করতে পারি, দেশের মানুষের চিকিৎসা ব্যবস্থা যদি আমরা তৈরি করতে পারি, তাহলেই এক কথায় সম্ভব আমাদের সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশকে গড়ে তোলা। ে
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযোদ্ধারা স্বাধীনতাকে রক্ষা করেছিলেন, স্বাধীনতাকে অর্জন করা হয়েছিল। ঠিক একই ভাবে ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেই স্বাধীনতাকে আবার রক্ষা করা হয়েছে। ১৯৭১ সালের যুদ্ধ পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় গণতন্ত্রের সংগ্রামে যুদ্ধে একই ভাবে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় আমরা কি কেউ কারো ধর্ম বর্ণ দেখেছিলাম? আমরা কোনো ধর্ম বর্ণ দেখিনি। কে মুসলমান? কে হিন্দু? কে বৌদ্ধ? কে খ্রিস্টান? আমরা এটি দেখিনি। আমরা শুধু দেখেছিলাম গণতন্ত্রের পক্ষে, মানুষের অধিকারের পক্ষে তারা লড়াই করার জন্য রাজপথে নেমে এসেছে।
তারেক রহমান বলেন, এই দেশে শত হাজার বছর ধরে প্রত্যেকটি ধর্মের মানুষ শান্তিতে বসবাস করেছে। আমরা চাই বিএনপির লক্ষ্য এবং বিএনপির উদ্দেশ্য হচ্ছে, আমরা সকল ধর্মের মানুষকে সাথে নিয়ে শান্তিতে বসবাস করতে চাই। আমরা সকল ধর্মের মানুষকে সাথে নিয়ে আমাদের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যে বাংলাদেশের প্রত্যেকটি মানুষের বিবেচনা হবে, প্রত্যেকটি মানুষকে বিবেচনা করা হবে তার যোগ্যতার ভিত্তিতে, তার মেধার ভিত্তিতে তাকে বিবেচনা করা হবে।
তিনি বলেন, আমরা খেয়াল করছি একটি মহল বলার চেষ্টা করছে, এবার ভোট গণনার ফলে অনেক সময় লাগবে। শুনেছেন এই কথা আপনারা? ষড়যন্ত্র কিন্তু আবার শুরু করেছে। এই যে যাদের কথা বলেছি প্রথমে যারা জনগণের সামনে সকাল বিকাল মিথ্যা কথা বলছে, যারা দেশের নারী সমাজকে হেয় প্রতিপন্ন করছে, এরাই আবার ষড়যন্ত্র শুরু করেছে বিভিন্ন ভাবে। কারণ তারা জানে তাদের এইসব কথাবার্তা, তাদের এইসব কাজকর্ম, এইসব ফাঁকিঁঝুঁকে মানুষ ধরে ফেলেছে এবং সে জন্যই তারা বিভিন্ন ছল চাতুরীর চেষ্টা করছে। আপনাদেরকে আজ থেকে সতর্ক থাকতে হবে, সজাগ থাকতে হবে। যে অধিকার আপনারা গত এক যুগ ধরে পাননি, আবার যাতে এই অধিকার কেউ কেড়ে নিয়ে যেতে না পারে, আপনাদের সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। দল মত ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে আমাদের সকলকে সতর্ক এবং সজাগ থাকতে হবে।
খুলনা মহানগর বিএনপির এডভোকেট শফিকুল আলম মনার সভাপতিত্বে এবং মহানগর সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিনের পরিচালনায় জনসভায় বকৃতি করেন, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা- ৩ আসনের প্রার্থী আলহাজ্ব রকিবুল ইসলাম বকুল, খুলনা- ২ আসনের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা-৪ আসনের আজিজুল বারী হেলাল, খুলনা-৫ আসনের আলী আসগর লবী, খুলনা-১ আসনের আমীর এজাজ খান, সাতক্ষীরা-১ আসনের হাবিবুর ইসলাম হাবিব, কেন্দ্রীয় গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান, জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুন্ডু,সাবেক সংসদ সদস্য এডভোকেট নেওয়াজ হালিমা আরলী, কেসিসির সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনি, জেলা বিএনপির আহবায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু খুলনা-৬ আসনের প্রার্থী মনিরুল হাসান বাপ্পি, সাতক্ষীরা-৩ আসনে কাজী আলাউদ্দিন,সাতক্ষীরা-২ আসনের প্রার্থী আব্দুর রউফ, সাতক্ষীরা-৪ আসনের ড. মনিরুজ্জামান, বাগেরহাট-৩ আসনে লায়ন ফরিদুল ইসলাম,বাগেরহাট-৪ আসনের সোমনাথ দে,বাগেরহাট-২ আসনের ব্যরিস্টার জাকির হোসেন, বাগেরহাট-১ আসনের কপিল কৃষ্ণ প্রমূখ।


