কৃষ্ণ সাগরে রাশিয়াগামী একটি তেলবাহী ট্যাংকার লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। পরে এই হামলার জেরে তুরস্কের উপকূলরক্ষী বাহিনীর কাছে সহায়তা চাইতে বাধ্য হয় ওই ট্যাংকার। পরবর্তীতে নির্ধারিত পথ পরিবর্তন গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। বৃহস্পতিবার লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্সের নোটিশ ও সামুদ্রিক নিরাপত্তাবিষয়ক পৃথক একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে বলে খবর দিয়েছে রয়টার্স।
সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিষয়ক তথ্য বিশ্লেষক সংস্থা লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্স বলেছে, পালাউয়ের পতাকাবাহী ‘এলবাস’ নামের ওই ট্যাংকারটি বুধবার ‘‘মনুষ্যবিহীন সামুদ্রিক যান ও ড্রোন হামলার’’ শিকার হয়েছে। ট্যাংকারের ইঞ্জিন কক্ষ লক্ষ্য করে ওই হামলা চালানো হয়েছে। তবে হামলায় ট্যাংকারের ২৫ জন নাবিকের কেউ আহত হননি এবং কোনও ধরনের দূষণের ঘটনাও ঘটেনি।
ওই নিরাপত্তা সূত্র ট্যাংকারের ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনার পর সেটি ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে। তবে এই হামলার ঘটনার পেছনে কারা জড়িত, সেটি পরিষ্কার নয়।
গত বছরের নভেম্বরের শেষ দিকে কৃষ্ণ সাগরে রাশিয়াগামী ট্যাংকারে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর ড্রোন হামলার পর থেকে জাহাজ বীমার হার ব্যাপক বৃদ্ধি পায়। ওই হামলার পাল্টা জবাব দেওয়ার হুমকি দেয় মস্কো। পরে উভয়পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানায় আঙ্কারা। ডিসেম্বরে আরেকটি রুশ পতাকাবাহী জাহাজও কৃষ্ণ সাগরে হামলার শিকার হয় বলে দাবি করেছিল মস্কো। তবে কিয়েভ ওই ঘটনায় নিজেদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করে।
এলবাস ট্যাংকারে হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা কোনও সাড়া দেয়নি বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এছাড়া তাৎক্ষণিকভাবে তুরস্কের পরিবহন মন্ত্রণালয়েরও কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি। আঙ্কারায় নিযুক্ত রাশিয়ার দূতাবাসও কোনও মন্তব্য করেনি।
বিশ্ববাজারে শস্য, তেল ও তেলজাত পণ্য পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক জলপথ কৃষ্ণ সাগর। এই সাগরের জলসীমা তুরস্ক, রাশিয়া, ইউক্রেন, বুলগেরিয়া, জর্জিয়া ও রোমানিয়ার মধ্যে ভাগ করা।
লয়েডসের নোটিশ অনুযায়ী, ট্যাংকারটি বুধবার সিঙ্গাপুর থেকে রাশিয়ার নভোরোসিস্ক বন্দরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছিল। মেরিনট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, পূর্বদিকে কৃষ্ণ সাগর অতিক্রমের আগের পথ পরিবর্তন করার পর বৃহস্পতিবার তুরস্কের উত্তরাঞ্চলীয় বন্দর ইনেবোলুর উপকূল থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল এলবাস।
সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিষয়ক এই সংস্থা বলেছে, ট্যাংকারটি নিজস্ব সক্ষমতার ব্যবহার করে ইনেবোলুর নোঙরস্থলে নোঙর ফেলেছে। ইনেবোলু বন্দরের হারবার মাস্টারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।



