ময়মনসিংহের ত্রিশালের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম তার ন’মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রত্না ও তাদের এক মেয়েকে নিয়ে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে যাচ্ছিলেন। অনাগত সন্তানের শারীরিক অবস্থা কেমন আছে তা জানতে আলট্রাসাউন্ড পরীক্ষা করার উদ্দেশ্যে তারা বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। কিন্তু ত্রিশালের কোর্ট ভবন এলাকায় রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুতগামী একটি ট্রাকের নিচে চাপা পড়েন পরিবারের সবাই। এতে ঘটনাস্থলে সবার মৃত্যু হলেও অলৌকিক বেঁচে গেছে গর্ভে থাকা বাচ্চাটি। ট্রাকের চাপায় রত্নার পেট ফেটে নাড়িভুঁড়িসহ বাচ্চাটা বের হয়ে আসে এবং বাচ্চাটিকে জীবিত উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মরতরা।
শিশুটিকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পর বোঝা যায় যে নবজাতক শিশুটিও আহত হয়েছে। পরে শিশুটিকে ময়মনসিংহ সদরের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সবশেষ গত শুক্রবার (২৯ জুলাই) শিশুটির স্থান হয় রাজধানীর আজিমপুরের ‘ছোটমণি নিবাসে’। সমাজসেবা মন্ত্রণালয়ের অধীনে শিশুটি সেখানেই রয়েছে। তার সাথে রয়েছে পরিবারহীন আরও ৩০ থেকে ৪০টি শিশু।
কেমন আছে শিশু ফাতেমা?
জানতে চাইলে ছোটমণি নিবাসের উপতত্ত্বাবধায়ক মোছা. জুবলী বেগম রানু ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘শিশু ফাতেমা ভালো আছে। আজকে তার বয়স ১৭ দিন হয়েছে। সে ঠিকমতো ঘুমাচ্ছে। নিউবর্ন বেবিরা সাধারণত দিনের বেশিরভাগ সময়ই ঘুমায় এবং খায়। নিয়ম অনুযায়ী তকে দুই ঘণ্টা পরপর দুধ দেওয়ার কথা। তাকে সেটা দেওয়া হচ্ছে এবং সে খাচ্ছে। তার হাতে একটা ফ্যাকচার আছে তাই হাতে ব্যান্ডেজ রয়েছে। সেটা না খুললে বুঝা যাচ্ছে না যে হাতের বর্তমান অবস্থাটা কি। আজকে (সোমবার) তাকে হাসপাতালে নেওয়ার কথা ছিল কিন্তু নানা কারণে সেটা সম্ভব হয়নি। যদিও তার ব্যান্ডেজ খুলার সময় এখনও হয়নি। তবে ফলোআপের জন্য হাসপাতালে নেওয়ার কথা ভাবছি। হাতের ওই সমস্যা ছাড়া তার অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা পাওয়া যায়নি। সে সম্পূর্ণ সুস্থ আছে।’
ছোটমণি নিবাসে রুস্টার অনুযায়ী তিনজন খালা শিশুদের দেখাশুনা করেন। নাইট ডিউটিতেও দুইজন খালা থাকেন। তারা সার্বক্ষণিক ফাতেমাসহ অন্য শিশুদের দেখাশুনা করছে বলে জানান তিনি।
পি এস / এন আই


