‘কোটি টাকায় কমিটি চাওয়া’ নিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিদ্যালয়ের (কুয়েট) ছাত্রলীগের সদ্য ঘোষিত কমিটির সভাপতি রুদ্র নীল সিংহ শুভ’র একটি অডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। প্রকাশিত অডিওতে এ ছাত্রলীগ নেতা কমিটি আনতে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির কাছে চাঁদা দাবি করছিলেন। তবে অডিওটি নিজের নয় বলে দাবি করেছেন ছাত্রলীগ নেতা রুদ্র নীল।
গত ১০ অক্টোবর ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান কুয়েট ছাত্রলীগের কমিটি অনুমোদন দেন।
কমিটিতে রুদ্র নীল সিংহ শুভকে সভাপতি, তরিকুল ইসলাম তিলককে সহসভাপতি, এ কে এম নিবীর রেজাকে সাধারণ সম্পাদক, গোলাম রাব্বি সিয়ামকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, রাগিব হাসান মুন্না ও সুজাউল করিমকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে।
অজ্ঞাত ব্যক্তির সঙ্গে ১৩ মিনিট ১৪ সেকেন্ডের অডিওতে ছাত্রলীগ সভাপতিকে বলতে শোনা যায়, ‘ভাই, যদি এক কোটি টাকা লাগে, আমি এক কোটি টাকা দেব। কমিটি আমার লাগবে। যা লাগবে তাই দেব, তবে কমিটি লাগবে।
’
অডিওতে ছাত্রলীগ নেতারা আরো বলেন, কমিটি হইলে এই মাসে হবে, না হলে সামনের মাসের প্রথম সপ্তাহে হবে। কেন্দ্রই করে দেবে, সম্মেলন-টম্মেলন কিচ্ছু হবে না। সবাই যে যার মতো দৌড়াচ্ছে।’
রুদ্র নীল ওই ব্যক্তিকে বলেন, ‘এখন আপাতত ৫০ হাজার টাকা দেন।
আর যেদিন কমিটি সাইন হবে, তার এক দুই দিন আগে বড় একটা অ্যামাউন্টের টাকা লাগবে। ধরেন আমার কাছে কিছু আছে। আরো কিছু যদি লাগে, সেডা আপনারে বললাম’।
ফোনের অপর পাশে থাকা ব্যক্তি ওই মুহূর্তে টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে রুদ্রনীল বলেন, ‘কালকে পুরোটা না পারেন, কিছু টাকা দিতে পারবেন না? বাকিটা রবিবারে দিলেন।’
এরপর বিভিন্ন কথার এক পর্যায়ে রুদ্র নীল বলেন, ‘ওপরওয়ালা যদি ক্ষমতা দেয়, সম্মান দেয়; তবে আমি আপনার উপকার ভোলব না।
এই যে প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারি হওয়ার জন্য এত চেষ্টা করছি…ক্যারিয়ার নষ্ট করে কারণ কী? কারণ তো অবশ্য আছে। এই কারণগুলো যখন ডিল করব, তখন আমার নিজস্ব লোক তো লাগবে। ওই লোকগুলো কারা হবে…আপনারাই হবেন।’
প্রসঙ্গত : ২০২১ সালের ৩০ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম হোসেনের আলোচিত মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত থাকায় সভাপতি রুদ্র নীল সিংহ শুভ ও সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম রাগিব আহসান মুন্নাকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দু’শিক্ষাবর্ষ বহিষ্কার ও আবাসিক হল থেকে চিরতরে বহিষ্কার করেছিল। কিছু ছাত্রের লাঞ্ছনা ও অপদস্থের শিকার হয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হলে ওই শিক্ষক মারা যান।
অবশ্য বিষয়টি অস্বীকার করেছেন ছাত্রলীগ নেতা রুদ্র নীল। তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ের খন্ডিত বক্তব্য জুড়ে দিয়ে অডিওটি তৈরি করা হয়েছে। এটি অপ্রচার।
–কালেরকন্ঠ


