খাদ্যে ভেজাল ও দ্রব্যমূল্যে কারসাজির বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)। সোমবার (৪ এপ্রিল) ডিএনসিসির বিভিন্ন অঞ্চলে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে খাবারের দোকানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, নিত্য পণ্যের দোকানে মূল্য তালিকা না থাকায় এবং স্বাস্থ্যবিধি না মানায় জরিমানা করা হয়।
সোমবার (৪ এপ্রিল) ডিএনসিসির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। দিনভর এ অভিযানে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
ডিএনসিসির অঞ্চল-৫ এর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কারওয়ান বাজার এলাকার ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা ভ্রামমাণ দোকানসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দোকান, বাজার, ফলের দোকান ও মাছ-মাংসের দোকানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এ সময় মোট ১ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মোতাকাব্বীর আহমেদ এই অভিযান পরিচালনা করেন।
অঞ্চল-৪ এর আওতাধীন ১৩নং ওয়ার্ডের উত্তর পীরেরবাগ ও মধ্য পীরেরবাগ এলাকায় মো. আবেদ আলী আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এ সময় ১৩ নং ওয়ার্ডের ৪৮টি ভবন, স্থাপনা, জলাশয়, রেস্টুরেন্ট ও দোকানপাট পরিদর্শন করা হয়। সবার ঢাকা অ্যাপস এর অভিযোগের প্রেক্ষিতে এ সময় ৩টি অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়। পাশাপাশি ফুটপাতে মালামাল রেখে জন সাধারণের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করায় নির্মাণাধীন ৩টি বাড়ির মালিককে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া প্রায় ২০০ মিটার ফুটপাত অবৈধ দখলমুক্ত করা হয়।
এছাড়া এই এলাকায় নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ ও ভেজাল খাবারের বিরুদ্ধে ২টি হোটেলকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ১৩ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে অভিযানকালে মাস্কও বিতরণ করা হয়।
অঞ্চল-১ (উত্তরা) এর ১ নম্বর ওয়ার্ডের ৬ নম্বর সেক্টরে বিডিআর বাজারে অভিযান পরিচালনা করেন আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও নিবাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুলকার নায়ন। অভিযানকালে মূল্য তালিকা না টানানোয় ভোক্তা অধিকার আইনে ২টি মামলায় দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি খাবারের দোকানগুলোতে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে সতর্ক করা হয়।
অঞ্চল ৬ এর ৫১ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তরা ১৪ নম্বর সেক্টরের জহুরা মার্কেট অভিযান পরিচালনা করেন আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাজিয়া আফরীন। এ সময় আনুমানিক ১ কিলোমিটার ড্রেন, রাস্তা ও ফুটপাত হতে ভ্রাম্যমাণ দোকান অপসারণ করা হয়। এছাড়া অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ থাকায় ও অবৈধভাবে ফুটপাত দখল করে রাখায় একটি হোটেলকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানে ১৪ নম্বর সেক্টরের ১টি রোডে অবৈধভাবে রাস্তা দখলকরে রাখা সব কার্ভাডভ্যান ও পিকআপ অপসারণ করা হয়েছে।
অঞ্চল-২ এর আওতাধীন মিরপুর-১ নম্বরের ডি ব্লক এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জিয়াউর রহমান। এ সময় খাবার হোটেলে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ থাকায় তিনটি হোটেলকে মোট ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
উল্লেখ্য, পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে এবং ভেজাল খাদ্যদ্রব্যের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন।
পিএসএন/এমঅাই


