
কাঠ ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের বাধা-হামলার মুখে খুলনার রূপসা এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে বিআইডব্লিউটিএ। উচ্ছেদ অভিযান চালাতে গেলে স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে উচ্ছেদ অভিযানের বিরোধিতা করেন।
এমনকি তারা বিআইডিব্লিউটিএ’র কর্মকর্তা-কর্মচারীরদের ওপর হামলা ও তাদের গাড়ি ভাঙচুর করেন। হামলায় বিআইডিব্লিউটিএ’র তিন কর্মী আহত হয়েছেন।
সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
বিআইডব্লিউটিএ খুলনার উপ-পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ীরা জানান, দীর্ঘ ৪০ থেকে ৪৫ বছর ধরে তারা পশ্চিম রূপসা নদীর তীরে কাঠের ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। ২০০৭ সালে তারা তাদের ব্যবসার স্থান বন্দোবস্ত নেওয়ার জন্য বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়ে আসছেন। কিন্তু বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ তাদের আবেদনে কোনো সাড়া না দিয়ে সেখান থেকে তাদের উচ্ছেদ করার জন্য চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি নোটিশ দেয়।
তারা আরও জানান, বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ীদের বন্দোবস্ত না দিলেও স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতাকে বন্দোবস্ত দেন। তিনি প্রতিবছর সেই বন্দোবস্ত নবায়ন করে ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। কিন্তু আর কোনো ব্যবসায়ীকে বন্দোবস্ত না দিলেও ব্যবসায়ীরা সেখানে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন।
রোববার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ এলাকায় মাইকিং করে ব্যবসায়ীদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। এর প্রতিবাদে ব্যবসায়ীরা সোমবার সকাল ১০টায় রূপসা স্ট্যান্ড রোডে মানববন্ধনের আয়োজন করে এবং সড়কে কাঠের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ করেন।
বেলা ১১টার আগে সেখানে বিআইডব্লিউটিএ’র ম্যাজিস্ট্রেট তাসলিমা আক্তারের নেতৃত্বে স্কেভেটর দিয়ে অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিলে শ্রমিকরা তাদের ওপর হামলা করেন। এ সময় তাদের দুটি গাড়ি ভাঙচুর করেন। হামলায় নুরুল হক, অনুকূল চন্দ্র ও আকতার নামে তিনজন আহত হন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর (সংরক্ষিত) জেসমিন জলি বলেন, কাঠ ব্যবসায়ীরা তাদের বন্দোবস্ত দেওয়ার জন্য দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ তাদের দাবির প্রতি কোনো কর্ণপাত না করে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে। এতে ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন।
বিআইডব্লিউটিএ খুলনার উপ-পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমরা নিয়মমাফিক সেখানে অভিযান চালাতে যাই। কিন্তু সেখানে অবৈধ ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে গাড়ি ভাঙচুর করেন এবং আমাদের তিন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে মেরে আহত করেন। এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, বন্দোবস্তের বিষয়টি মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত দিতে পারে। আমরা তাদের আবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি।



