নয়ন ইসলাম: কয়েকমাস আগেই খুলনায় রিয়েল নামে একটি সঞ্চয় ও ঋণদান কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের বিরুদ্ধে হাজার হাজার গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
খুলনা মহানগরীর গোবরচাকা এলাকার মোল্লাবাড়ী মোড়ে ওই প্রতিষ্ঠানটির একটি অফিস রয়েছে। তাদের রেজিষ্ট্রেশন নং- ১৯/কে। খুলনা শহরে তাদের কয়েক হাজার গ্রাহক আছে।
উল্লেখ্য অত্র প্রতিষ্ঠানের সকল চাকুরীজীবী টাকা আত্মসাত ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন।কিন্তু হঠাৎ করে শুক্রবার রাত সাড়ে ১০ টার দিকে প্রতিষ্ঠানটির ‘ম্যানেজার ইশতিয়াক রাব্বি শোভন’ শহরের নিউ মার্কেট এলাকার একটি রেস্ট্রুরেন্টে বসে খাবার খাচ্ছেন- এই খবর পেয়ে সাথে সাথে অবরুদ্ধ করেন খুলনা মহানগরীর ৪,৬ এবং ৭নং ঘাট এলাকায় গ্রাহকরা।পরবর্তীতে তাকে খুলনা ৬ ও ৭ ঘাট জেটি হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের অফিসে নিয়ে আসা হয়।
মুহূর্তেই এই খবর পেয়ে যায় গ্রাহকরা। পরে শতাধিক গ্রাহক একত্রিত হয় ৬ ও ৭ নং ঘাট জেটি হ্যাডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের অফিসের সামনে এবং তারা খুলনা জোড়াগেট- খালিশপুর (নতুন রাস্তা) অবরোধ করে রাখেন।এতেকরে কিছু সময়ের জন্যে স্বাভাবিকভাবে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। পরবর্তীতে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের নির্দেশে সড়ক অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
গ্রাহকদের অভিযোগ, ২০১২ সাল থেকে খুলনা মহানগরীর ৪নং ঘাট এলাকায় বস্তিবাসীদের কাছ থেকে ডিপিএস, এফডিয়ার, দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক মেয়াদে প্রতিষ্ঠানটি টাকা নিত। একটা নির্দিষ্ট মেয়াদ পর লাভ্যংশসহ টাকা ফেরত দিত। তবে করোনা মহামারির পর থেকে তারা কোনো গ্রাহকের টাকাই ফেরত দেয়নি।
ইতি আক্তার নামের এক গ্রাহক বলেন, ‘আমি বেশ আগে থেকে এই সমিতির সঙ্গে জড়িত। দৈনিক ৩০ টাকা করে তাদের কাছে জমা রাখতাম। বছর শেষে তারা মূল টাকা সুদসহ ফেরত দিত। তবে গত ৩ বছর আগে রাখা টাকা ২ বছর আগে মেয়াদ শেষ হয়েছে। কিন্তু এই দুই বছরে আমার টাকা ফেরত পাইনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের বস্তির শত শত মানুষ তাদের বিশ্বাস করে টাকা দিয়েছে। এখানে ভিক্ষুক, দিনমজুররা বেশি টাকা রাখতেন। সবাই এখন পথে বসেছেন।
রাত সাড়ে ১:৩০ মিনিটের দিকে দিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা শ্রমিকদের নিয়ন্ত্রণের আনেন।
আটক ম্যানেজার ইশতিয়াক রাব্বি শোভন বলেন, ‘সমিতির মালিক ছিলেন শিবলু নামে এক ব্যক্তি।তিনি বিদেশ পালিয়ে গেছেন(ম্যানেজারের ভাষ্যমতে)। আমি তাদের ম্যানেজার ছিলাম। আমি কি করে টাকা ফেরত দেব। শ্রমিকরা আমাকে অযথা আটকে রেখে মারধর করছে।

এ বিষয়ে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ১৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আমিনুল ইসলাম মুন্না (প্যানেল মেয়র-১) বলেন, আটককৃত ম্যানেজারকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে সকল গ্রাহকের টাকা আদায় করার জন্য সকল আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

খুলনা ৬ ও ৭ ঘাট জেটি হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো: মাহাবুব হাসান শামিম বলেন,আমি একজন শ্রমিক নেতা।আমি একজন শ্রমিকের কষ্ট বুঝি।এই টাকা তাদের কষ্টের টাকা। এই সমিতিতে আমার কোন টাকা নেই,তারপরও আমি এ বিষয়ে অন্তর্ভুক্ত হয়েছি শুধুমাত্র আমার শত শত শ্রমিক ভাই ও বোনেদের টাকা এই সমিতিতে। তারা আমাকে যেভাবে ভরসা করেন তাদের সেই ভরসার জায়গা থেকে আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি এ টাকা আদায় করবার জন্য।
খালিশপুর থানার ওসি কামাল হোসেন বলেন, ‘ঘটনাস্থলে পুলিশ আছে। বিষয়টি নিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
পি এস/এন আই


