খুলনার কয়রা, দাকোপ ও পাইকগাছা উপজেলায় টানা ভারী বৃষ্টিতে ১০০টিরও বেশি চিংড়ি ঘের ভেসে গেছে এবং নিচু এলাকার বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে গেছে।
বৃষ্টির কারণে স্থানীয় প্রশাসনিক ভবন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকাও প্লাবিত হয়েছে। রাস্তা, নার্সারি, সবজিখেত ও বসতঘরে পানি উঠেছে। গদাইপুর, হরিধালী, কপিলমুনি ও রাড়ুলী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায়ও জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। পাইকগাছা শহরের মূল মাছবাজারসহ বাজার ও সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে, যার ফলে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে।
দাকোপ ও কয়রার বিভিন্ন ইউনিয়নেও একইভাবে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। শুধু পাইকগাছায় ৫০টিরও বেশি চিংড়ি ঘের ও বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি ভেসে গেছে।
গদাইপুর গ্রামের কৃষক সামাদ গাজী জানান, তাদের নার্সারি ও ফলের চারা নষ্ট হয়েছে। আমন ধান ও সবজির ক্ষেত পানির নিচে, যার ফলে এবারের মৌসুমে বড় ধরনের ফসলহানির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, দুর্বল পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, বন্ধ ড্রেন ও ভরাট খাল এই পরিস্থিতি আরও খারাপ করেছে।
মৎস্য অধিদপ্তর ও কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, খুলনায় ৩ হাজারেরও বেশি চিংড়ি ঘের ও এক হাজারের বেশি পুকুর ভেসে গেছে এবং দুই শতাধিক হেক্টর কৃষিজমি, যার মধ্যে আমন বীজতলা রয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৪.৫ কোটি টাকা।
পাইকগাছার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সাইকাত মালিক জানান, উপজেলায় ২,৮৫০টি চিংড়িঘের, ৯০০টির বেশি পুকুর, ৮২ হেক্টর আমন বীজতলা, ১১৫ হেক্টর সবজি ক্ষেত, ১৮ হেক্টর কাঁচামরিচ এবং ২ হেক্টর আগাম তরমুজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পাইকগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা একরামুল হোসেন আমন বীজতলা ও সবজির ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ইউএনও মাহেরা নাজনীন জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনে সকল স্লুইস গেট খুলে দেওয়া হয়েছে এবং পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন পরিষ্কারের কাজ চলমান রয়েছে।
কয়রার ইউএনও রুলি বিশ্বাস জানান, কৃষিজমি ও চিংড়িঘের ক্ষতির বিষয়ে তারা অবহিত হয়েছেন।
এদিকে, অতিভারী বৃষ্টিতে খুলনা শহরের বেশিরভাগ রাস্তাঘাট ও নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। বাসা-বাড়ি ও দোকানপাটে পানি উঠেছে, যা নাগরিক জীবনে চরম ভোগান্তি তৈরি করেছে।
খুলনা আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ আমিরুল আজাদ জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের কারণে মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে বুধবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খুলনায় ১৩৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।


