
অযথা হয়রানী না করে দেশের স্বার্থ রক্ষায় পুলিশ প্রশাসনকে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহবান জানিয়ে খুলনা মহানগর বিএনপির আহবায়ক আইনজীবীু শফিকুল আলম মনা বলেছেন, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনসহ ১০ দফা দাবিতে চলমান যুগপৎ আন্দোলন চলছে। চলমান গনতান্ত্রিক শান্তিপূর্ণ আন্দোলন সারাদেশে শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হলেও খুলনায় কর্মসূচি আসলেই পুলিশ গায়েবী মামলা দিয়ে, হামলা চালিয়ে, নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে অহেতুক হয়রানী করে অরাজকতাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি না করার আহবান জানান।
তিনি বলেন, খুলনার শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে অতিউৎসাহী পুলিশের লাঠির আঘাতে মারাত্মক আহত হয়ে খুলনার বিএনপি নেতা বাবুল কাজী মৃত্যুবরণ করেছেন। মহানগর বিএনপি সিনিয়র নেতা ফখরুল আলমের একটি চোখের আলো চিরতরে নিভে গেছে। স্বেচ্ছাসেবক দলের দুইজন কর্মীকে সমাবেশ থেকে ধরে নিয়ে পুলিশ চুল কেটে দিয়েছে। গতবছর ২৬ মে বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের উপস্থিতিতে চলমান সমাবেশে হামলা চালিয়ে পুলিশ প্রশাসন সমাবেশ পন্ড করে দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি ১ হাজারের বেশি চেয়ার ভাঙচুর, বিএনপি অফিসে তান্ডব, অফিসের রক্ষিত গুরুত্বপূর্ণ ফাইলপত্র তছনছ করেছে। খোদ দলীয় কার্যালয় থেকে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব শফিকুল আলম তুহিনসহ অনেককে গ্রেফতার করেছিলো। শান্তিপূর্ণ ওই কর্মসূচিতে পুলিশ হামলা করে আবার পুলিশ বাদী হয়ে বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুলসহ ৮শত নেতাকর্মীর নামে মামলা দায়ের করেন।
বুধবার দুপুরে খুলনা মহানগর বিএনপি কার্যালয়ে অসহনীয় লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক দুর্নীতির প্রতিবাদে আগামী শুক্রবার বিকাল ৩টায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে খুলনা মহানগর বিএনপি কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে পদযাত্রার কর্মসূচি সফল করতে ও পুলিশি হয়রানি বন্ধের দাবিতে সংবাদ সম্মেলনে এই আহবান জানান।
সর্বশেষ গত ১৯ মে খুলনা প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ কিভাবে নির্বিচারে গুলিবর্ষন করেছে তা দেশবাসী দেখেছেন। পুলিশের গুলিতে বিএনপির প্রায় তিনশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। অনেকে শরীরে গুলির স্পীন্টার বয়ে বেড়াচ্ছেন। ওইদিনের কর্মসূচিতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মহামুদ চৌধুরীকে প্রায় ২ঘন্টা প্রেসক্লাবে অবরুদ্ধ করে রাখে। কেন্দ্রীয় তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলালসহ ১৩০০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে মিথ্যা মামলা করেছে।
এসময় মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব শফিকুল আলম তুহিন, স. ম. আব্দুর রহমান, বেগম রেহেনা ঈসা, কাজী মাহমুদ আলী, শের আলম সান্টু, আবুল কালাম জিয়া, বদরুল আনাম খান, চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন, একরামুল হক হেলাল, শেখ সাদী, হাসানুর রশিদ চৌধুরী মিরাজ, কে. এম. হুমায়ূন কবীর, হাফিজুর রহমান মনি, আবু মো. মুরশিদ কামাল, কাজী মিজানুর রহমান, মোল্লা ফরিদ আহমেদ, মিজানুর রহমান, আইনজীবী কানিজ ফাতেমা আমিন ও কাওসারী জাহান মঞ্জু।

