খুলনায় চাঞ্চল্যকর রাজীব হত্যা মামলার প্রধান আসামি শিপন শেখকে (৩২) গ্রেপ্তাতার করেছে র্যাব। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে র্যাব-৬ এবং র্যাব-১০ এর যৌথ আভিযানিক দল ফরিদপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আজ শুক্রবার র্যাবের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে- র্যাব-৬, সিপিসি স্পেশাল কোম্পানি এবং র্যাব-১০, সিপিসি-৩, ফরিদপুর এর যৌথ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদপুর জেলার কোতোয়ালি মডেল থানাধীন জোয়াইড় মোড় এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে রাজীব হত্যা মামলার প্রধান আসামি শিপন শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সে গত ৩ জানুয়ারি নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হবার পর হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া চাঞ্চল্যকর রাজীব হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ১নং পলাতক আসামি
মামলার এজাহারে উক্ত মামলার বাদী ইয়াসিন মোল্লা (৩৭) সম্পর্কে নিহত রাজীব হোসেনের ফুফাতো ভাই। গ্রেফতারকৃত আসামি শিপন শেখ ও মামলার অন্যান্য আসামিরা বাদির ফুফাতো ভাই রাজিব একসাথে চলাফেরা করতো। মামলার আসামিরা এলাকায় বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে লিপ্ত থাকত বিধায় নিহত রাজীব আসামিদের সাথে চলাফেরা বন্ধ করে দেওয়ায় আসামিরা তার উপর ক্ষিপ্ত হয়।
এর জের ধরে গত ৩ জানুয়ারি রাত অনুমান পৌণে তিনটায় নিজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে কল পেয়ে নিহত রাজীব তার স্ত্রী ফারহানাকে শিপন ও আকতার ডাকছে বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর নিখোঁজ হয়। বাদী, নিহত রাজীবের স্ত্রী ও অন্যান্য নিকটাত্মীয়রা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও নিখোঁজ রাজীবের কোনো সন্ধান পায়নি।
পরবর্তীতে গত ৯ জানুয়ারি বিকাল লোকমুখে বাদী সংবাদ পান যে, খুলনার নৌ-পুলিশ, খালিশপুর থানাধীন মামুর আস্তানার ৬নং পল্টন ঘাট ভৈরব নদীর পশ্চিম পাশে অজ্ঞাতনামা একজন পুরুষের মৃতদেহ ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে।
নিহতের স্ত্রী ফারহানা (১৯) খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে উপস্থিত হয়ে অজ্ঞাতনামা মৃতদেহটি দেখে তার স্বামী রাজিবের মৃতদেহ বলে সনাক্ত করে। পরবর্তীতে লাশের ময়না তদন্ত শেষে কেএমপি সদর নৌ থানা, খুলনার নিকট হতে লাশ বুঝে পেয়ে লাশের দাফন সম্পন্ন করতঃ ইয়াসিন মোল্লা বাদী হয়ে খুলনা মহানগরীর খালিশপুর থানায় হাজির হয়ে মামলার এজাহার দায়ের করেন।
গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ফরিদপুর জেলার কোতোয়ালি মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।


