
আলি আবরার
আজ চাঁদ দেখা গেলে কাল ঈদ, আরবাকি কয়েক ঘন্টা। এরই মধ্যে দূর-দূরান্ত থেকে প্রিয়জনদের সাথে ঈদ করতে খুলনায় চলে এসেছে অনেকে, বেড়েছে কিছুটা জানজট।
হাতে আর মাত্র একদিন থাকায় শেষ মুহুর্তের কেনাকাটার জন্য শহরের মার্কেটগুলায় চলছে উপচে পড়া ভীড়। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় শহরের কেডিএ নিউমার্কেট, ডাকবাংলা মোড়, বড় বাজার, খুলনা শপিং কমপ্লেক্স, জলিল টাওয়ার, ও শিববাড়ির শো-রুম গুলো জনসমাগমে কানায় কানায় পূর্ণ। প্রিয় মানুষটার জন্য কিংবা পরিবারের জন্য ঘুড়্রে ঘুরে জামা-কাপড় কিনছে শহরবাসী।
ঢাকা থেকে আগত টুটপাড়া নিবাসী রাফসান জানান, ঢাকায় চাকরির জন্য মার্কেটিং করার সুযোগ পাই নি, তাই ছুটিতে খুলনা এসে বাসার সবাইকে নিয়ে বের হয়েছেন নিউমার্কেট কিংবা আড়ং থেকে কেনাকাটা করতে।
কাপড়-চাপরের দোকান ছাড়াও মেয়েদের মেকাপ-প্রসাধনী শো-রুম গুলোতেও উপচে পড়া ভীড় লক্ষ্য করা গিয়েছে। বান্ধবীকে নিয়ে পিকচার প্যালেস মোড়ে ব্রাইট স্টোরে মেকাপ কিনতে আসা লাবিবার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ” জামা-কাপড়ের পাশাপাশি যদি নেইল-পলিশ, মেহেদী ও মেকাপ না কেনা হয় তাহলে মেয়েদের ঈদ পরিপুর্ণ হয়না”।
তবে বড়লোকদের নিউ-মার্কেট শিববাড়ির তুলোনায় মধ্য ও নিম্নবিত্তদের মার্কেটখ্যাত ডাকবাংলা ও বড় বাজারে ভীড় তুলামুলক বেশি লক্ষ্য করা গিয়েছে। অন্যান্য বছরের তুলোনায় এবছর জামা-কাপড়ের দাম কিছুটা বেশী বলেও অভিযোগ করেছেন কেউ কেউ।
এছাড়াও শহরে ঈদ উৎসবকে আরো রাঙ্গাতে বিভিন্ন হোটেল ও রেস্টুরেন্টে চলছে মেয়েদের মেহেদী উৎসব।
ঈদে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহন করেছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)। পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে শান্তি-শৃংখলা রক্ষার্থে সকল মার্কেট বিপনী বিতান সহ বাসটার্মিনাল, রেল স্টেশনে সর্বিক নিরাপত্তা প্রদান করছে কেএমপি। সার্বক্ষণিক কেপিআই সহ সকল অফিস আদালতের নিরাপত্তা বিধান করা হচ্ছে। ডিউটিতে অবস্থানরত সকল ফোর্সের ডিউটি তদারকির জন্য অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ সার্বক্ষণিক তদারকীর মাধ্যমে আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। আসন্ন ঈদ জামাতের নিরাপত্তা বিধানে ঈদগাহ ও মসজিদ কেন্দ্রিক ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ন ঈদগাহ ময়দানে সিসি ক্যামেরা ও আর্চওয়ে এবং হ্যান্ড মেটাল দ্বারা সুইপিং পূর্বক মুসল্লীদের নিরাপত্তা বিধানের সার্বিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রনয়ন করা হয়েছে।
খুলনায় ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৮টায় খুলনা সার্কিট হাউজ ময়দানে। ইতিমধ্যে প্রধান জামাত আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।



