জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু ও দৃষ্টান্তমূলকভাবে আয়োজনের সরকারি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে নেমেছে। খুলনার ছয়টি সংসদীয় আসনে সম্ভাব্য সন্ত্রাস সৃষ্টিকারীদের তালিকা ইতোমধ্যে গোয়েন্দাদের হাতে প্রস্তুত রয়েছে। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের পরপরই তালিকাটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে চলতি মাস থেকেই সাতটি সংস্থার সমন্বিত তৎপরতা শুরু হয়েছে।
গত মাসে অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আ.স.ম জামশেদ খোন্দকার। সভায় উপস্থিত একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধি জানান, নির্বাচনকে ঘিরে সন্ত্রাস সৃষ্টি করতে পারে—এমন দুর্বৃত্তদের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে, যা আগামী সপ্তাহের মধ্যেই সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছাবে। তিনি আরও বলেন, গোয়েন্দা প্রতিবেদনে গণভোট নিয়ে রাজনৈতিক মহল ও সরকারের মধ্যে যে ভুল বোঝাবুঝির কথা উঠে এসেছে, তা শিগগিরই দূর হবে। সভায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার জোরদার, যৌথবাহিনীর টহল বৃদ্ধি, ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে বডি অন ক্যামেরা ব্যবহার এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় (কেপিআই) সিসিটিভি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কেএমপি’র অতিরিক্ত কমিশনার (দক্ষিণ) অমিত বর্মণ বলেন, নগরীতে চেকপোস্টের সংখ্যা বাড়ানো হবে এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করা হবে।
র্যাবের উপ-অধিনায়ক মেজর মো. নজরুল ইসলাম জানান, নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ১৩০ সদস্যের একটি মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। মোবাইল কোর্ট ও চেকপোস্ট সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে।
বিজিবি’র সহকারী পরিচালক মো. সফিয়ার রহমান বলেন, প্রতিটি উপজেলায় ২০ জন করে সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। তারা ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তৃণমূল পর্যায়ে অবস্থান করবেন।
নৌ পুলিশের সহকারী সুপার মো. সাদিকুর রহমান জানান, নদীপথে নজরদারি ও নৌ টহল জোরদার করা হবে। কয়রার আমাদি ও দক্ষিণ বেদকাশি এলাকায় ৯৫ জন এবং তেরখাদা ও দিঘলিয়ায় প্রায় দুইশ’ নৌ পুলিশের সদস্য মোতায়েন থাকবে।



