
খুলনা মহানগরীর খালিশপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক মৃধা শহীদুল ইসলাম শহীদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির ফাঁস হওয়া ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের পক্ষ থেকে সংগঠন পরিপন্থি কাজের জন্য প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
গত ৩১শে জুলাই মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি এমএ নাসিম ও সাধারণ সম্পাদক এসএম আসাদুজ্জামান রাসেল স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানা গেছে, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের জরুরি সভায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত কার্যকলাপে লিপ্ত থেকে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করায় সংগঠন থেকে মৃধা শহীদুল ইসলাম শহীদকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়। এদিকে, খালিশপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক শহীদ দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার হওয়ার পরে তার অপকর্মের ব্যাপারে মুখ খুলছেন অনেকেই। বাস্তুহারা এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা প্রশ্ন করেন, ৯নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃধা শহীদুল ইসলাম শহীদ বিগত পাঁচ বছর আগে ভ্যানে করে ফেরি করতো, সে কীভাবে এত টাকার জমি ও ব্যবসার মালিক হলো?
নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, শহীদের নেতৃত্বে পরিচালিত কিশোর গ্যাং স¤প্রতি একটি শিশু ও বাস্তুহারার বাসিন্দা মো. কামাল হোসেনকে নির্মমভাবে মেরে আহত করে। শিশু পেটানো, বাড়ি থেকে বিতাড়িত করা, রাস্তা সংস্কারের নামে অর্থ লোপাট, সরকারি জমি দখল, যাকে তাকে পেটানো, মাদক নেটওয়ার্ক পরিচালনাসহ বহু সংসার ভাঙার অভিযোগ পাওয়া যায় তার বিরুদ্ধে। বিভিন্ন এনজিও সংস্থার দেয়া রাস্তা ও ঘরপ্রতি ২০০ টাকা করে চাঁদা নিয়েছে সে। বাস্তুহারা এলাকায় শহীদের প্রধান দেহরক্ষী আসাদুল ওরফে বাঘ মামা’র অত্যাচারে ভাঙারি ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে রিকশাওয়ালা পর্যন্ত সব সময় আতঙ্কে থাকে। ৪-৫ বছরের মধ্যে শহীদুল ইসলাম শহীদ ফাইম প্রপার্টিস থেকে সাড়ে ৩ শতক জমি ক্রয়, বরিশালে ৩০-৪০ লাখ টাকার উপরে জমি ক্রয়সহ বিভিন্ন সময় মেসেঞ্জারে অস্ত্রের ছবি দিয়ে হুমকি, ভয়ভীতি দেখিয়ে ও বিভিন্ন সালিশের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে নগদ টাকা আত্মসাৎ করে। তার বিরুদ্ধে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণসহ বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মুন্নুজান সুফিয়ান বরাবর অভিযোগপত্র তৈরি করেছে এলাকাবাসী।
গত ২রা জুলাই মৃধা শহীদুল ইসলাম শহীদের নেতৃত্বে কিশোর গ্যাং বাস্তুহারার বাসিন্দা মো. আশরাফ হাওলাদারের ছেলে মো. পলাশ হাওলাদারের ওপর হামলা চালায়।
পরবর্তীতে পলাশ হাওলাদার বাদী হয়ে খালিশপুর থানায় শহীদকে ১ নম্বর আসামি করে মোট ৬ জন ও অজ্ঞাত ৩-৪ জনের নামে মামলা করেন। এ ব্যাপারে খালিশপুর থানার ওসি শেখ মুনির উল-গীয়াস জানান, ৩নং আসামি জুয়েলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করেছেন যৌন হয়রানির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ওই নারীকে চাপ সৃষ্টি করে বাস্তহারা এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য করা হয়েছে।
পিএসএন/এমঅাই


