
চলতি রবি মৌসুমে খুলনা কৃষি অঞ্চলের চারটি জেলায় ১ হাজার ২৪৫ হেক্টর জমি থেকে ২ লাখ ৯৬ হাজার টনের বেশি শীতকালীন মরিচ উৎপাদন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
২০২৩-২৪ অর্থবছরে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও নড়াইল জেলায় ২,৯৬০ টন উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ১,২৭৩ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবুজ মরিচ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
যদিও মোট ১,২৪৫ হেক্টর জমি সবুজ মরিচ চাষের আওতায় এসেছে যা চারটি জেলার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৮ হেক্টর কম, তবে আবহাওয়া এখন অনুকূল থাকায় কৃষকরা বাম্পার ফলনের আশা করছেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর-এর একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
বাসসের সাথে আলাপকালে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) খুলনা জোনের অতিরিক্ত পরিচালক মোহন কুমার ঘোষ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলে অন্যান্য সবজির পাশাপাশি মরিচের ব্যাপক উৎপাদন হয়ে আসছে।
তিনি আরো বলেন, খুলনা কৃষি অঞ্চলে শীতকালীন সবুজ মরিচের চাষ ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে কারণ এটি লাভজনক এবং অন্যান্য শীতকালীন সবজির মতোই এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
“মরিচ চাষের শুরুতে খারাপ আবহাওয়ার কারণে চাষের জমি নির্ধারিত চাষের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কিছুটা কম ছিল। তবে ধীরে ধীরে আবহাওয়া উপযোগী হয়ে যাওয়ায় শীতকালীন মরিচের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে,” মোহন কুমার ঘোষ বলেন, এই রবি মৌসুমে অধিকাংশ গ্রামবাসী নিজেদের চাহিদা মেটাতে মরিচ চাষ করেছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা বলেন, একটি পরিবার যদি বাড়ির চারপাশে 20টি মরিচের চারা রোপণ করা হয় তবে মরিচের চাহিদা কমাতে পারে। এ ছাড়া এটি ছয় থেকে ১২ মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়।
এছাড়া উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করার লক্ষ্যে প্রয়োজনভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রদানসহ কৃষকদের মধ্যে প্রণোদনা বিতরণসহ নানামুখী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, পুরোদমে ফসল কাটা চলছে।
ডিএই কর্মকর্তারা জানান, ২৩৭ হেক্টর জমি থেকে ৫৯৩ টন শীতকালীন সবুজ মরিচ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল যেখানে খুলনা জেলায় নয় হেক্টর বেশি জমিতে চাষ করা হয়েছে।
বাগেরহাটে শীতকালীন মরিচ চাষের আওতায় ৩৯১ হেক্টর জমিতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৯৪৮ টন।
সাতক্ষীরা ও নড়াইল জেলায় যথাক্রমে ৪২০ ও ২২৫ হেক্টর জমি শীতকালীন মরিচ চাষের লক্ষ্যমাত্রার আওতায় এসেছে, ডিএই কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
শীতকালীন সবুজ মরিচ চাষ এখানে কৃষকদের মুখে হাসি এনেছে কারণ তারা অন্যান্য সবজি চাষের পাশাপাশি শীতকালীন মরিচ চাষ করে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হয়ে উঠছে।


