খুলনা বিভাগে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে নতুন করে ২০২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ১৫৬ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে ৪৬ জন ভর্তি হন। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে নতুন কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি এবং মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১৬ জনেই অপরিবর্তিত রয়েছে।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে অদ্যাবধি খুলনা বিভাগে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪,৮০৬ জনে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪,০৮৯ জন এবং বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৬১৮ জন রোগী। এছাড়া উন্নত চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন স্থান থেকে ৮৩ জনকে রেফার্ড করা হয়েছে।
জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, খুলনা জেলায় সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি। এই জেলায় এখন পর্যন্ত ১,৫৪৯ জন এবং খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১,১৩১ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া বাগেরহাটে ১,০২৫ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে।
৫ দিনে বিভাগে হাস্পাতালে ভর্তি ৯৭৯
খুলনা বিভাগে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও প্রাদুর্ভাব অব্যাহত রয়েছে। গত ৫ দিনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই পাঁচ দিনে বিভাগে মোট ৯৭৯ জন নতুন রোগী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মশক নিধনে স্থানীয় প্রশাসন ও নগরবাসীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। ডেঙ্গুর এই প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে মহানগরীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিয়ন্ত্রণে খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করছে। নগরীর পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে কেসিসি পরিচালিত ক্রাশ প্রোগ্রামের পাশাপাশি নিজ নিজ বাড়ি অথবা স্থাপনার সীমানার মধ্যে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও মশার প্রজনন স্থান পাওয়া গেলে বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে নিজ নিজ বাড়ি অথবা স্থাপনার মধ্যে ঝোপঝাড়, টায়ার, কৌটা, ডিমের খোসা, ডাবের খোল, ফুলের টব, বেসিনের নিচে, ফ্রিজের পাশে, এসির পাশে, সানসেটে পানি জমে আছে কিনা সেদিকে লক্ষ্য রাখাসহ বাড়ির আঙ্গিনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।


