সরকার আগস্টের ৩১ তারিখ পর্যন্ত ধান-চাল সংগ্রহের সময়সীমা নির্ধারণ করলেও খুলনা আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয় নির্ধারিত সময়ের ১৬ দিন আগেই, অর্থাৎ আগস্টের ১৫ তারিখে সংগ্রহ কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি সংগ্রহ করতে সক্ষম হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের তথ্যমতে, আগস্টের ১৫ তারিখ পর্যন্ত খুলনা বিভাগে সিদ্ধ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রার ১০৯ শতাংশ এবং বোরো ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রার ১০৫ শতাংশ পূর্ণ হয়েছে। এ পর্যন্ত ৪৭ হাজার ৪৪২ টন বোরো ধান এবং ১ লাখ ৯২ হাজার ৬৩৬ টন সিদ্ধ চাল সংগ্রহ করা হয়েছে।
খাদ্য বিভাগ চলমান সংগ্রহ অভিযানে মে মাসের ১৫ তারিখ থেকে কেজি প্রতি ৩৬ টাকা দরে ধান এবং ৪৯ টাকা দরে সিদ্ধ চাল ক্রয় করছে। এ মৌসুমে খুলনা আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয় ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩১৯ টন বোরো ধান এবং ৪৫ হাজার ৩৭ টন সিদ্ধ চাল সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু আগস্টের ১৫ তারিখের মধ্যেই তারা লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে।
জেলায় জেলায় ধান-চাল সংগ্রহের চিত্র:
- খুলনা: ৫,৮০০ টন ধান, ২৬,৮৭৭ টন চাল
- বাগেরহাট: ৪,২৩৯ টন ধান, ১০,৫০৪ টন চাল
- সাতক্ষীরা: ৫,৭৭৩ টন ধান, ১৯,৬৭৮ টন চাল
- যশোর: ১২,৮২৮ টন ধান, ৩৪,৫৩৮ টন চাল
- ঝিনাইদহ: ৬,৫১৫ টন ধান, ২১,৩১১ টন চাল
- মাগুরা: ৩,৪৭৩ টন ধান, ৬,১১৫ টন চাল
- নড়াইল: ২,৯৪১ টন ধান, ৫,৭৮৮ টন চাল
- কুষ্টিয়া: ২,৯২৯ টন ধান, ৪৯,৮৮৭ টন চাল
- চুয়াডাঙ্গা: ১,৯২২ টন ধান, ১২,৯৯৪ টন চাল
- মেহেরপুর: ১,০২১ টন ধান, ৯৯৬ টন চাল
খাদ্য বিভাগের সহকারী উপ-পরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর জানান, “আমরা কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান এবং ৭৭৪ জন মিলারদের কাছ থেকে চাল সংগ্রহ করেছি। লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হওয়ায় আগস্টের ১৭ তারিখ থেকে সংগ্রহ কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।”
কৃষকরা এবার সন্তোষজনক ফলন পাওয়ায় খুশি হয়েছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনুকূল আবহাওয়া ও সঠিক সময়ে বৃষ্টিপাতের কারণে বোরো মৌসুমে কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন সম্ভব হয়েছে।
এছাড়া, সরকারের সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে সংগ্রহের ফলে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমেছে। কৃষকরা ন্যায্য দামে ধান বিক্রি করতে পারায় তারা স্বস্তি ও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।


