
‘১০ দিন আগে সাগরে মাছ ধরতে গেছিলাম। প্রথম চার দিন জাল টেনে কোনো মাছ পাইনি। পরে অল্প অল্প মাছ পাইতে থাকি। গতকাল (বুধবার) পর্যন্ত ভালো মাছ পাইছি; যা গত এক বছরেও পাইনি। আজ (বৃহস্পতিবার) মাছ নিয়ে আলীপুর মৎস্য বন্দরে বিক্রি করতে এসেছি। এখানে মাছ বিক্রি করে পেয়েছি ১০ লাখ টাকার ওপরে।’ হাসিমুখে এভাবে কথাগুলো বলছিলেন পটুয়াখালীর আলীপুর মৎস্য বন্দরে মাছ বিক্রি করতে আসা ভোলা চরফ্যাসনের বাসিন্দা বেল্লাল মাঝি।
গভীর সমুদ্রের এই মাছ শিকারি জানান, গত ২ মাসে তিনবার সাগরে গিয়ে ১৫ লাখ টাকা লোকসানে পড়েছেন তিনি। এর মধ্যে আবহাওয়া খারাপ থাকায় কয়েকবার তীরে আশ্রয় নিতে হয়েছে তাদের।
‘১৫ দিনের বাজার নিয়ে সাগরে যাব। আর মাছ বিক্রির টাকা দিয়ে ঋণ পরিশোধ করব। এভাবে যদি আবার মাছ পাই, তাহলে ঋণ পরিশোধ করে সংসারে খরচ করতে পারব’– বলছিলেন বেল্লাল মাঝি।
তবে বেল্লাল মাঝির উল্টো চিত্র উপকূলীয় জেলে অর্থাৎ সমুদ্র তীরবর্তী এলাকায় যারা খুটা পদ্ধতিতে মাছ শিকার করেন। উপকূলের জেলেদের প্রায় সবাই ফেরেন খালি হাতে।
মৎস্য বিভাগ বলছে, তীরবর্তী এলাকায় ডুবোচর থাকার কারণে ইলিশ তাদের গতিপথ পরিবর্তন করায় এই সমস্যা তৈরি হচ্ছে। গভীর সমুদ্রে লাল জাল দিয়ে মাছ শিকারকারীরা ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ পাচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার পটুয়াখালীর বড় দুটি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র আলীপুর-মহিপুরের বিভিন্ন আড়ত ঘুরে দেখা যায়, স্থানীয় ছাড়াও চট্টগ্রাম, ভোলা, বাঁশখালী, কুতুবদিয়া, কক্সবাজার থেকে অনেক ট্রলার এখানে ইলিশ বিক্রি করতে এসেছে। ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ পাওয়ায় সরগরম পুরো মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র। ইলিশ কিনতে পাইকাররা ভিড় করছেন। কেউ কেউ গুনছেন।
এজাজ মোল্লা আলীপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের মোল্লা ফিসের পরিচালক। তিনি বলেন, গভীর সমুদ্রের জেলেরা ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ নিয়ে আসছেন এবং ভালো দামও পাচ্ছেন। জাটকা ২১ হাজার, ৬০০-৭০০ গ্রামের ইলিশ ২৮ হাজার, ৮০০-৯০০ গ্রামের ইলিশ ৩৬ হাজার এবং ১ কেজির ওপরের ইলিশ ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা মণ বিক্রি হচ্ছে। তবে এই দামে জেলেরা খুশি থাকলেও পাইকাররা প্রায়ই লোকসান গুনছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। গভীর সমুদ্র থেকে মাছ ধরার ট্রলারগুলো ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ নিয়ে ফিরছে বলে নিশ্চিত করেছেন কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা। তিনি বলেন, ৬৫ দিনের অবরোধের সুফল পাচ্ছেন জেলেরা। তবে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপকূলবর্তী জেলেরা। এর প্রধান কারণ হলো আন্দারমানিক ও রামনাবাদ চ্যানেল সংলগ্ন বেশ কয়েকটি ডুবোচর সৃষ্টি হয়েছে, যে কারণে ইলিশ গতিপথ পরিবর্তন করেছে।
এই মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শ, উপকূলের জেলেরা যেন গভীর সমুদ্রে মাছ শিকারের সরঞ্জামাদি তৈরি করেন এবং এসব সরঞ্জাম নিয়ে গভীর সাগরে মাছ ধরতে যান জেলেরা।
পিএসএন/এমঅাই


