২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সমালোচকদের এক হাত নিয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো। টুর্নামেন্টটিকে সংহতি, নিরাপত্তা ও অন্তর্ভুক্তির এক সফল উদযাপন হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি সমালোচকদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও মিথ্যা রটানোর অভিযোগ তুলেছেন।
সোমবার প্রকাশিত এক খোলা চিঠিতে ৫৬ বছর বয়সী ইনফান্তিনো বলেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো জুড়ে আয়োজিত এবং স্পেনের শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হওয়া এই আসর বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ সমর্থকের মনে যে আনন্দ ও ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে, সমালোচকেরা তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেছেন।
ইনফান্তিনো বলেন, “তোমরা ঘৃণা আর সমালোচনায় এতটাই বুঁদ হয়ে ছিলে যে আসল সবকিছুই মিস করে গেছ।”
তিনি আরও যোগ করেন, “কলম-কাগজ কিংবা স্ক্রিনের পেছনে বসে যারা ঘৃণা ও মিথ্যা গুজব ছড়াচ্ছেন, তাদের আমি বলতে চাই, আপনারা পেছনে বসে থাকলেও আমরা ফিফার সদস্যরা একদম সামনে থেকে দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করে বিশ্বকে সেরা আয়োজন উপহার দিয়েছি। আমরা কোনো হিংসা, কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা দেখিনি; শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সেখানে ছিল কেবলই আনন্দ আর সুখের মুহূর্ত!”
টুর্নামেন্ট চলাকালীন একাধিক ইস্যুতে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল ফিফাকে, যার মধ্যে কয়েকটি দেশের সমর্থক ও অফিশিয়ালদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা কড়াকড়ি নিয়ে বিতর্ক এবং সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলের দলগুলোকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া উদ্বেগ অন্যতম।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিরুদ্ধে লাল কার্ড পাওয়া ফল্যারিন বালোগানের এক ম্যাচের স্বয়ংক্রিয় নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করার বিষয়টি নিয়ে ফিফার সিদ্ধান্তও তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিল, যার পরেই ইনফান্তিনোর এই চিঠি সামনে এলো।
পাশাপাশি মিসরের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার ম্যাচে রেফারির কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েও সমর্থক ও বিশেষজ্ঞদের মাঝে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। ইনফান্তিনো যদিও সুনির্দিষ্ট কোনো ঘটনার উল্লেখ করেননি, তবে তিনি যুক্তি দেখান যে টুর্নামেন্ট জুড়ে যেসব রেফারিং ও শৃঙ্খলামূলক সিদ্ধান্তের সমালোচনা করা হয়েছে, তা বিশ্বজুড়ে অন্যান্য প্রতিযোগিতাতেও খুবই সাধারণ বিষয়।
তিনি লেখেন, “সম্ভাব্য ভুল লাল বা হলুদ কার্ড কিংবা বিশেষ পরিস্থিতিতে খেলোয়াড়দের নিষিদ্ধ না করার পরবর্তী সিদ্ধান্তগুলো বিশ্বের বড় বড় লিগগুলোতে অত্যন্ত নিয়মিত এবং স্বাভাবিকভাবেই গৃহীত এক ঘটনা। এটি বেশ অদ্ভুত যে যেসব দেশে এই ধরনের প্রথা চালু রয়েছে, তারাই এখন সবচেয়ে বেশি সমালোচনা করছে।”
রাজনৈতিক উত্তেজনা, অভ্যন্তরীণ সংকট এবং স্বাস্থ্যজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা দেশগুলোর টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকে ফুটবলের বিভেদ দূর করার ক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেন ইনফান্তিনো।
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সংঘাতময় পরিস্থিতির মাঝে ইরানের অংশগ্রহণ, হাইতির অভ্যন্তরীণ সংকট এবং ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর ইবোলা প্রাদুর্ভাবের মতো বিষয়গুলো ভিসা ও ভ্রমণ কড়াকড়ির দিকে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। এমনকি বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও সোমালিয়ার বিশ্বকাপ রেফারি ওমর আব্দুলকাদির আর্তানকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
এ প্রসঙ্গে ইনফান্তিনো বলেন, “কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা সংঘাত ছাড়াই ইরান যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিল। ইরান দল ভিসা পেয়েছিল কারণ ফুটবল শান্তি শেখায়, এটি রাজনীতির জায়গা নয়।”
তিনি আরও বলেন, “গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা বা অন্যান্য চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়া দেশগুলোকেও ভিসা দেওয়া হয়েছিল। ফুটবল যখন হাইতিকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছে—এমন একটি দেশ যেখানে অনেকেই যেতে পারেন না বা যেতে চান না—তখন বোধহয় আপনাদের কলম ও কিবোর্ড সরিয়ে রেখে মাঠে খেলা দলগুলোর প্রতি কিছুটা সম্মান দেখানোর সময় এসেছে।”


