আলি আবরার
খুলনায় গত কয়েকদিন ধরে তীব্র তাপপ্রবাহে এ অঞ্চলের স্বাভাবিক জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
ক্রমাগত তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই অঞ্চলে প্রচণ্ড গরমে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সকলের।
মানুষ, বিশেষ করে নিম্ন-আয়ের গোষ্ঠী এই তাপপ্রবাহে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে বেশি। অতি প্রয়োজনীয় কারণ কারণ ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না মানুষজন ।
শহরে দীর্ঘদিন রিক্সা চালায় সুমন বিশ্বাস (৩৪) বলেন, “আজ রিকশা চালানোর সময় প্রচণ্ড গরম ও কষ্টে আমি রোজা ভাঙতে বাধ্য হয়েছি। গত কয়েক দিনে রাস্তায় যাত্রীর সংখ্যা কম থাকায় আমার দৈনিক আয়ও অনেকাংশে কমে গেছে।”
একই কথা বলেন শহরের একজন ছোট সবজি বিক্রেতা আরমান। প্রচণ্ড গরমে শুধু শারীরিকভাবে নয়, আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা।
গরমের প্রভাব পড়েছে ঈদের কেনাকাটাও ।
তাপপ্রবাহের কারণে নগরীর শপিংমলগুলোতে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত মাত্র হাতেগোনা কয়েকজন ক্রেতাকে দেখা গেছে।
খুলনা আবহাওয়া অফিরে বরাতে জানা যায়, সোমবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় চুয়াডাঙ্গায় ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। খুলনা মহানগরীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যশোরে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
খুলনা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ ও অফিসার ইনচার্জ আমিরুল আজাদ বলেন, খুলনা, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থা আরো ৩-৪ দিন থাকবে।”
তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে তাল মিলিয়ে গত সপ্তাহে শহর ও এর আশেপাশে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যাও বেড়েছে।
চিকিৎসকরা জানান, তাপপ্রবাহে শিশু ও বৃদ্ধরা পানিশূন্যতা, জন্ডিস এবং হিট স্ট্রোকের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।
খুলনা শিশু হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ খান মনিরুজ্জামান বলেন, “ডায়রিয়াজনিত রোগ থেকে বাঁচতে বিশুদ্ধ পানি পান করা আবশ্যক। খাবার স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রাখতে হবে এবং হাত ধোয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং গরমে দীর্ঘ সময়ের জন্য বাইরে থাকা থেকে বিরত থাকার অভ্যাস করতে হবে।
“যদি কেউ অসুস্থ হয়ে পড়ে, তাকে অবিলম্বে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া উচিত,”বলে তিনি জানান।
বাসস

