‘কালা পাহাড়’ নাম শুনলেই চোখে ভাসে বড় কোনো পাহাড়ের কথা। কিন্তু ‘কালা পাহাড়’ কোনো পাহাড় না। এটি একটি গরু। যশোর জেলার সবচেয়ে বড় কোরবানির গরু এই ‘কালা পাহাড়’।
মঙ্গলবার (৫ জুলাই) গাবতলীর পশুর হাট কাঁপাতে সুদূর যশোর থেকে ঢাকা আসছে ‘কালা পাহাড়’।
শুধু নামেই ‘কালা পাহাড়’ নয়, এটি দেখতেও ছোট খাটো পাহাড়ের মতোই। মিছমিছে কালো রঙয়ের ‘কালা পাহাড়’ এর ওজন ২২০০ কেজি (৫৫ মণ)। প্রতি দিনের খাদ্য তালিকায় তার থাকে ১৬-১৭ কেজি ধান, চাল, গম, ছোলা, কেওড়া, খেসারি, মসুর ডাল, সয়াবিন, সরিষা, তুলাবীজ, নারিকেলের খৈল, কালিজিরাসহ ১৪ রকমে মিশ্রিত পালিশ। সঙ্গে বিচলি ও কাঁচা ঘাস তো আছেই। প্রতিদিন আড়াই হাজার টাকা খরচ হয় কালা পাহাড়ের পিছনে।
এই গরুর মালিক সৌমিক আহমেদ সাগর। যশোর সদর উপজেলার মাহিদিয়ার এই বাসিন্দা একজন সৌখিন খামারি। ৩ বছর ধরে এই গরুকে পরম যত্নে লালনপালন করছেন তিনি। এবারের কোরবানি ঈদে গরুটি দাম নির্ধারণ করেছেন ৩০ লাখ টাকা। কিন্তু জেলায় এর দাম উঠেছে মাত্র সাড়ে ১২ লাখ টাকা। তাই সঠিক মূল্যে বিক্রির জন্য ‘কালা পাহাড়’কে গাবতলীর পশুর হাটে নিয়ে আসছেন তিনি। গরুটির সঠিক মূল্যে বিক্রির জন্য সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন মালিক সৌমিক আহমেদ সাগর।
সৌমিক আহমেদ সাগর বলেন, ‘অনেকটা শখের বশেই গরু পালন করি আমি। নওয়াপাড়া থেকে মাত্র ৬৫ হাজার টাকা দিয়ে এই ফ্রিজিয়ান জাতের গরুটা কিনেছিলাম। ৩ বছর ধরে নিজের সন্তানের মতো করে লালনপালন করেছি। এখন ওর ওজন ২২০০ কেজি (৫৫ মণ)। কোরবানি ঈদে গরুটি দাম নির্ধারণ করেছি ৩০ লাখ টাকা। তবে এখন অবধি কালা পাহাড়ের দাম উঠেছে মাত্র সাড়ে ১২ লাখ টাকা। গরুটির সঠিক মূল্য না পাওয়াতে হতাশ হয়ে পড়েছি। আজ ঢাকার গাবতলীর পশুর হাটে বিক্রির জন্য নিয়ে যাচ্ছি। গরুটির সঠিক মূল্যে বিক্রির জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।’
যশোর সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে গত ১৪ মে পশু প্রদর্শনীর আয়োজনে করে। সেই অনুষ্ঠানে খুলনা বিভাগের অন্য প্রাণীদের পিছনে ফেলে কালা পাহাড় প্রথম স্থান অর্জন করে। জেলা প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে একটি ক্রেস্ট ও সনদ দেয়। তাই ‘কালা পাহাড়’ নিয়ে তার আশা অনেক এমনটাই জানান সৌখিন খামারি সৌমিক আহমেদ সাগর।
যশোর সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শফিউল আলম জানান, নিঃসন্দেহে সৌমিক আহমেদ সাগরের পালিত ‘কালা পাহাড়’ যশোর জেলার মধ্যে সব চেয়ে বড় গরু। তবে খুলনা বিভাগের মধ্যে প্রথম পাঁচটা গরুর মধ্যে কালা পাহাড় থাকবে। গরুটি লালন পালনে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সব সময় তার পাশে ছিল। জেলার বেকার বা গরু পালনে আগ্রহীরা তার মতো গরু লালন পালন করে লাভবান হতে পারেন। এ জন্য উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের কর্মকর্তারা সব সময় তাদের পাশে থাকবে।
পি এস /এন আই


