গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর প্রথমবারের মতো সমাবেশে অংশ নিলেন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রধান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। শনিবার (২৬ নভেম্বর) রাওয়ালপিন্ডি অভিমুখে লংমার্চের অংশ হিসেবে শহরের রেহমানাবাদ এলাকায় আয়োজিত সমাবেশ যোগ দেন তিনি।
সমাবেশে উপস্থিত হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থকের উদ্দেশে ভাষণ দেন ইমরান খান। ভাষণে ইসলামাবাদ অভিমুখে লংমার্চকালে গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি। ইমরান খান বলেন, সেদিন তিন দুর্বৃত্ত আমাকে হত্যা করার চেষ্টা করেছিল। তারা আবারও আমাকে গুলি করার জন্য অপেক্ষায় রয়েছে।
এদিন সরকারের নির্দেশনা উপেক্ষা করেই আবারও লংমার্চ শুরু করেছে পাকিস্তানের সরকারবিরোধী দল তেহরিক-ইন-ইনসাফ (পিটিআই)। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী রাওয়ালপিন্ডি অভিমুখে যাত্রা শুরু করেন দলের নেতাকর্মী-সমর্থকরা।
নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে পিটিআইয়ের লংমার্চ স্থগিত করার আহ্বান জানায় সরকার। শুক্রবার (২৫ নভেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পিটিআই চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি পাঠিয়ে লংমার্চ না করার আহ্বান জানানো হয়।
ইমরান খানকে উদ্দেশ্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রানা সানাউল্লাহ বলেন, ‘আপনার নিজের জীবন সবচেয়ে ঝুঁকিতে আছে। কারণ, যদি সত্যিই সন্ত্রাসী হামলা ঘটে, সে ক্ষেত্রে হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু থাকবেন আপনি।’
তবে সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করেই আবারও রাজপথে নেমেছেন পিটিআই নেতারা। ‘হাকিকি আজাদ’ নামে ইমরান খানের এই লংমার্চকে ডন ‘লংমার্চ ২.০’ আখ্যা দিয়েছে। প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, অসুস্থ শরীরেও লংমার্চে অংশ নিয়েছেন ইমরান খান।
এদিন বিশাল গাড়িবহর নিয়ে তিনি লাহোর থেকে রাওয়ালপিন্ডির উদ্দেশে রওনা হন। ইসলামাবাদ অভিমুখে লংমার্চকালে গত ৩ নভেম্বর গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকে লাহোরেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন ইমরান। সমাবেশে ইমরান খান বলেন, লাহোর থেকে বের হওয়ার সময় সবাই আমাকে নিষেধ করেছিল। কারণ আমার পায়ে আঘাতের ব্যথা ও আমার জীবন হুমকির মুখে আছে।
তিনি আরও বলেন, আমি মৃত্যুর খুব কাছে ছিলাম এবং হামলার সময় আমার মাথার ওপর দিয়ে গুলি উড়ে গেছে। যখন আমি পড়ে যাই, আমি জানতাম আল্লাহ আমাকে রক্ষা করবেন। পিটিআই প্রধান বলেন, তার পা সুস্থ হতে আরও ৩ মাস সময় লাগবে।
বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিবিদ ইমরান খান ২০১৮ সালে সাধারণ নির্বাচনে বড় জয় নিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন। দেশটির রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারকারী সেনাবাহিনীর সমর্থন তখন তার দিকে থাকলেও কিছু দিন পর তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়।
সেনা সমর্থন হারানো ইমরানের বিরুদ্ধে চলতি বছরের মার্চে জোট বেঁধে অনাস্থা প্রস্তাব আনে দেশটির বড় দুই রাজনৈতিক দল পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) ও পাকিস্তান পিপল’স পার্টি (পিপিপি)।
অনাস্থা ভোটে ইমরান খান পরাজিত হলে পিটিআই সরকারের পতন ঘটে। এরপর প্রধানমন্ত্রী হন পাকিস্তান মুসলিম লিগের নেতা শাহবাজ শরিফ, যিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের ছোট ভাই।
ক্ষমতা হারানো ইমরান নতুন নির্বাচনের দাবি তুলে পাকিস্তানে ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে’ ইসলামাবাদের উদ্দেশে লংমার্চের ডাক দেন। গত ২৮ অক্টোবর লাহোর থেকে শুরু হয় ওই কর্মসূচি, যা শেষ হওয়ার কথা ছিল ৪ নভেম্বর। কিন্তু তার একদিন আগে ৩ নভেম্বর পাঞ্জাবের ওয়াজিরাবাদ শহরে সমাবেশ চলাকালে গুলিবিদ্ধ হন ইমরান।
ওইদিন ওয়াজিরাবাদ শহরে ট্রাকের ওপর দাঁড়িয়ে শত শত কর্মী-সমর্থকের উদ্দেশে বক্তব্য দিচ্ছিলেন ইমরান খান। এ সময় তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় এক বন্দুকধারী। তিনি গুরুতর আহত হন। আহত হয়েছেন পিটিআইয়ের একাধিক সমর্থকও। গুরুতর আহত ইমরানকে লাহোরের শওকত খানম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকেই ২৬ নভেম্বর থেকে ফের লংমার্চ শুরুর ঘোষণা দেন ইমরান খান।
পিএসএন/এমঅাই


