বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রে বন্ধ থাকা ছয়টি কূপের মধ্যে মঙ্গলবার পর্যন্ত চারটি থেকে গ্যাস উৎপাদন আবার শুরু হয়েছে। আজ বুধবারের মধ্যে আরেকটি চালু হয়ে যাবে। এতে প্রায় ৩৮ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাইপ লাইনে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। ফলে গ্যাস সংকট কমে যেতে পারে। গ্যাসক্ষেত্রের দায়িত্বে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক কোম্পানি শেভরন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত দেশের সবচেয়ে বড় গ্যাসক্ষেত্র বিবিয়ানার ২৬টি কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলন করে শেভরন। এর মধ্যে গত রবিবার থেকে ছয়টি কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলন বন্ধ রাখা হয়। এতে দৈনিক ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস কম সরবরাহ হচ্ছিল। সে কারণে ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দেয়। এতে রোজার প্রথম দিন জনজীবনে ভোগান্তি বাড়ে। গত সোমবার সারা দিন গ্যাস সংকট চরমে ছিল। তবে মঙ্গলবার থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করে।
গত রবিবার দুপুরের দিকে বিবিয়ানা ছয় নম্বর কূপ থেকে বালি উঠতে শুরু করে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে বালি ওঠা কূপটি চিহ্নিত করতে পারেননি শেভরনের প্রকৌশলীরা। আর এ কারণে গ্যাস উত্তোলনরত অবস্থায় থাকা ছয়টি কূপই বন্ধ করে দেওয়া হয়।
জ্বালানি বিভাগ ও পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা বলছেন, মঙ্গলবার দেখা গেছে যে ছয় নম্বর কূপ থেকেই বালি উঠছে। সে কারণে বন্ধ রাখা কূপগুলোয় একে একে আবার উৎপাদন শুরু করা হচ্ছে। ছয় নম্বর কূপটি চালু কবে হবে সেটি এখনো বলা যাচ্ছে না। কারণ, এ কূপটি সংস্কার করতে হতে পারে। এটা করতে হলে দীর্ঘ সময় লাগবে।
শেভরন বাংলাদেশের জনসংযোগ ব্যবস্থাপক (করপোরেট অ্যাফেয়ার্স) শেখ জাহিদুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ছয়টি কূপ বন্ধ ছিল। আমরা এখন চিহ্নিত করতে পেরেছি আসলে কোন কূপ থেকে বালি উঠছে, সেটি আসলে ছয় নম্বর কূপ। একমাত্র ছয় নম্বর কূপ ছাড়া বাকি কূপগুলোর উৎপাদন আবার শুরু করা হচ্ছে। মঙ্গলবারের মধ্যে চার নম্বর কূপ চালু হবে। বালি ওঠা কূপটি বাদে বাকি একটি কূপ দ্রুতই চালু হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা রয়েছে ৩৭০ কোটি ঘনফুট। আমদানি করা ১০০ কোটি ঘনফুট ও দেশীয় ১৮০ কোটি ঘনফুটসহ দেশে গড় সরবরাহ গ্যাসের পরিমাণ দৈনিক ২৮০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র থেকে সরবরাহ করা হয় ১১০ কোটি ঘনফুট; সেই গ্যাসের মধ্যে ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। আর এতেই গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে।
পিএসএন/এমঅাই


