গ্রামে গ্রামে ঘুরে ফেরি করতেন। কোনোদিন আয় একেবারে হত না বললেই চলে। তবে দু’চোখে স্বপ্ন ছিল অনেক বড় হওয়ার। সেই স্বপ্ন পূরণ করার লক্ষ্যে প্রতিনিয়ত চেষ্টা করতেন তিনি। তার জেরে কখনও পড়াশোনা ছাড়েননি। সেই ছেলেটিই স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আইআইটিতে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
ভারতের খড়গপুর আইআইটিতে ভর্তি হয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিছেন ফেরিওয়ালা ছোটন কর্মকার। এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়ার বাংলা সংস্করণ এই সময়।
খবরে বলা হয়েছে, পশ্চিমঙ্গের বাঁকুড়া জেলার শালতোড়ার এক প্রত্যন্ত গ্রাম পাবড়া। সেখানেই বসবাস ছোটন কর্মকারের। বাবা কানাই কর্মকার নিজেও একজন ফেরিওয়ালা। বাবা, মা ও দাদাকে নিয়ে ছোট্ট সংসার ছোটনের।
সংসারের হাল ধরতে বাবার পথেই পথিক হয়েছিলেন ছোটন। তাদের সংসার একেবারেই ভালো করে চলত না। তবে শত কষ্টের মধ্যেও পড়াশোনা ছাড়েননি ছোটন। আর তার জেরেই সর্বভারতীয় স্তরে এন্ট্রান্স পরীক্ষায় সাফল্য পান তিনি। চান্স পান আইআইটি খড়গপুরে।
পিঠে ভারী ব্যাগ, অগোছালো চুল, চোখমুখে ভয় নিয়েই খড়গপুর আইআইটিতে পা রেখেছিলেন ছোটন। সেখানে ইতস্তত অবস্থায় ঘুরতে দেখেন খড়গপুর আইআইটির কর্তব্যরত নিরাপত্তা কর্মীরা। তড়িঘড়ি নিরাপত্তা কর্মীরা তার পথ আটকায়। এরপর বৈধ নথি দেখিয়ে আইআইটিতে প্রবেশ করেন তিনি।
গ্রামেরই এর সরকারি স্কুল থেকে তার পড়াশোনা। ছোটনের কাছে এ যেন স্বপ্নের মতোই!
এদিকে কানাইবাবু আইআইটি কী সেই সম্পর্কে খুব বেশি কিছু জানেন না। তবে ছেলে যে পড়াশোনায় সফল হয়েছে তা বুঝতে অসুবিধা হয়নি তার। তার জেরেই বেজায় খুশি তিনি। ছেলে যে আইআইটিতে পৌঁছবে তা ভাবতে পারেননি ছোটনের মাও। তার স্বপ্ন ছেলে যেন আরও বড় হয়।


