বাগেরহাটের চিতলমারীর খামারিরা পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে ১১ হাজার ৭৮১ টি পশু বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেছেন। এ বছর এ উপজেলায় কোরবানির জন্য ৭ হাজার ১২১ টি পশুর চাহিদা রয়েছে। উদ্বৃত্ত থাকবে ৪ হাজার ৬৬০ টি। উদ্বৃত্ত পশুগুলো দেশের বিভিন্ন হাট ও বাজারে বিক্রি করা হবে। তবে গো-খাদ্যের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির কারণে খামারিরা লাভ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন। থানা পুলিশ কোরবানিকে ঘিরে যাতে পশুবাহী ট্রাক ও হাট-বাজারে চাঁদাবাজি এবং হয়রানি না হয় সেদিকে কঠোর নজর রেখেছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল থেকে জানা গেছে, এ উপজেলায় ১ হাজার ৪০৫ জন খামারি রয়েছেন। তাদের মধ্যে ১ হাজার ৪২ জন খামারী গরু (হৃষ্টপুষ্টকরণ) ও ৪৫ জন খামারি ছাগল কোরবানির জন্য প্রস্তুত করেছেন। প্রস্তুতকৃত কোরবানির পশুর মধ্যে ৪ হাজার ৩২৩ টি ষাঁড়, ২ হাজার ২১২ টি গাভী ও ৫ হাজার ২৪৬ টি ছাগল রয়েছে।
সাইদ ডেইরি ফার্মের মালিক মোঃ সোহাগ শেখ জানান, তিনি আসন্ন ঈদুল আযহার জন্য ১৬ টি ষাঁড় প্রস্তুত করেছেন। এ বছর গো-খাদ্যের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। যার কারণে লাভ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন। তাছাড়া কোরবানির পশু বিক্রির শেষ মুহুর্তে ভারতীয় গরু প্রবেশ না করলে পশুর হাটে তারা ন্যায্যমূল্য পাবেন। খামারিরা ইতোমধ্যে কোরবানির পশু বিক্রি শুরু করছেন। শেষ সময়ে ভালো দামের আশায় তাঁরা গবাদি পশুর পরিচর্যা বাড়িয়ে দিয়েছেন।
চিতলমারী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কৃষিবিদ আহম্মেদ ইকবাল বলেন, ‘আমরা নিয়মিত খামারিদের খোঁজ-খবর রাখছি। এ বছর এ উপজেলায় চাহিদার তুলনায় প্রায় ৫ হাজার পশু বেশী। তাই কোরবানির পশু নিয়ে কোন চিন্তা করতে হবে না।
চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সামনে ঈদুল আযহা। তাই কোরবানির পশুবাহী ট্রাক ও বিভিন্ন স্থানে যাতে চাঁদাবাজি না হয় সেদিকে আমাদের নজর রয়েছে। তাছাড়া হাট-বাজারে যাতে কোরবানির পশু ক্রেতা-বিক্রেতা হয়রানির শিকার না হয় সেজন্যও পুলিশ কাজ করছে।’


