জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা কারণে দেশের উপকূলীয় পানি ও প্রতিবেশ ব্যবস্থাপনা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। এর ফলে এ অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য ও মানুষের জীবন-জীবিকা ক্রমশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। কৃষির পাশাপাশি মৎস্য সম্পদও পড়েছে চরম হুমকিতে। এ অবস্থায় জনগণকে সম্পৃক্ত করে দ্রুত কার্যকর পানি ব্যবস্থাপনা নীতি বাস্তবায়ন জরুরি; অন্যথায় অচিরেই দেশের দক্ষিণাঞ্চল মানুষের জন্য বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়তে পারে। ‘পানি ও প্রতিবেশ সুরক্ষা-ই টেকসই উন্নয়ন’ প্রতিপাদ্য নিয়ে খুলনায় অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী তৃতীয় উপকূলীয় পানি সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের মূল প্রবন্ধে এসব বিষয় উঠে আসে। মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পরিবেশ, জলবায়ূ ও পানি বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ড. আইনুন নিশাত।
আজ রোববার দুপুরে নগরীর সিএসআভা সেন্টারে তৃতীয় উপকূলীয় সম্মেলনে দেশের ৬০টিরও বেশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে।
মূল প্রবন্ধে ড. আইনুল নিশাত বলেন, উপকূল মারাত্মক বিপদে আছে। অথচ উপকূল নিয়ে রাষ্ট্রীডভাবে তেমন কাজ হচ্ছে না। ২০২৩ সালে বৈশ্বিক চুক্তি হলেও আমাদের কোন কাজ হয়নি। গত বছর ছয়টি সাইক্লোন হয়েছে, সবগুলোই মায়ানমার-ভারত উপকূল দিয়ে গিয়েছে। আমরা বেঁচে গেছি। ফ্লোডিয়ায় ১৭ ফুট জলোচ্ছ্বাস হয়েছে, এখানে হলে আমাদের ফরিদপুর পর্যন্ত ভেসে যেতো। আগামী ৫০ বছর পর খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পানি সমুদ্রের মতো লবণাক্ত হবে।
ড. আইননু নিশাত আরো বলেন, দেশের স্বার্থেই প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন দরকার। বিশেষ করে ভারত ও নেপালের পানি প্রকল্পের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পৃক্ত হয়ে নিজেদের হিস্যা আদায় করতে হবে। অথচ এতো বছরেও আমাদের পানি সংজ্ঞা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
তিনি নদীর গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, আমরা নদীকে নষ্ট করে ফেলেছি। নদী শুধু পানি বহন করে না। নদী সেগিমেন্ট বহন করে, পলি বলবেন না। সেগিমেন্ট সেখানে পাথর, বালু, কাদা ও ভাসমান বস্তু থাকে। বর্তমান অবস্থা অব্যাহত থাকলেও দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় এলাকার লবণাক্ততা বেড়ে সমুদ্রের রূপ নেবে। সুন্দরবন ধ্বংস হয়ে যাবে। মৎস্য ও কৃষি উৎপাদন অর্ধেকে নামবে। বাঁধ দিয়ে আমরা বন্যা নিয়ন্ত্রণ করেছি। কিন্তু বাঁধের রক্ষণাবেক্ষণ করিনি।
তিনি বলেন, পরিকল্পনা গ্রহণকালে ভুক্তভোগী জনগোষ্ঠীর মতামত নেওয়া হয় না। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উপকূল ও বাংলাদেশকে বাঁচাতে পানি নিয়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
দাতা সংস্থা অ্যাকশন এইডের কান্ট্রি ডিরেক্টটর ড. মো. খাইরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও উপকূলীয় পানি সম্মেলন কমিটির সদস্য সচিব শামীম আরফিনের সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন সুন্দরবন একাডেমির নিবার্হী পরিচালক অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড.মারুফুল ইসলাম, অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশেনের প্রোগাম ম্যানেজার সোমা দত্ত প্রমুখ। সম্মেলনে একাধিক বিদেশি প্রতিনিধি ভার্চুয়ালি তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
সম্মেলনের দুটি সেশনে ২০টি সাইড ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। আজ সোমবার একই স্থানে দুটি সেশনে সাইড ইভেন্ট ও ‘খুলনা ঘোষণা’র মধ্য দিয়ে সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠিত হবে।


