
যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে ক্রিকেটে। পিছিয়ে নেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও (বিসিবি)। এশিয়া কাপের আগে জিপিএস প্রযুক্তির যুগে প্রবেশ করল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। আজ শনিবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দলের অনুশীলন সেশনে প্রথমবারের মতো জিপিএস প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।
গত জানুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়ান ডেভিড মুরকে হেড অব প্রগ্রাম হিসেবে নিয়োগ দেয় বিসিবি। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি বাংলাদেশের ক্রিকেটে জিপিএস চালু করার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় আজ ক্যাটাপল্ট কম্পানির তৈরি ‘জিপিএস ভেস্ট’ পরে তাসকিন আহমেদ, হাসান মাহমুদরা অনুশীলন করেন। এই ভেস্ট বিশ্বের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য জিপিএস অ্যান্টেনাকে অন্য সেন্সরগুলোর সঙ্গে যুক্ত করে।
এই প্রযুক্তি থেকে ক্রিকেটারদের কাজের চাপ ও সব ধরনের তথ্য পাওয়া যাবে। একজন ক্রিকেটার অনুশীলনের সময় কতটা দৌঁড়াচ্ছেন, তার হৃদস্পন্দনের গতি কত ছিলো, কতটুকু হেঁটেছেন, সব তথ্য জিপিএস প্রযুক্তির মাধ্যমে ড্রেসিং রুমে থাকা ল্যাপটপে স্থানান্তরিত হবে।
ক্রিকেট অপারেশন্স কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই সিস্টেমে প্রত্যেক খেলোয়াড়ের জন্য ভিন্ন ‘অ্যাকাউন্ট’ থাকবে। এটির মাধ্যমে সকল কোচ এবং খেলোয়াড়রা খুব সহজেই সব তথ্য পেয়ে যাবে। একজন খেলোয়াড় ম্যাচ খেলার জন্য ফিট কিনা, সেটি তার নামের পাশে সবুজ-হলুদ বা লাল চিহ্ন দ্বারা বুঝা যাবে। সবুজ মানে ফিট, লাল মানে ফিট নয় এবং হলুদ মানে তার ফিটনেস নিয়ে সন্দেহ আছে। জিপিএস প্রযুক্তিসহ একটি বিশেষ কালো কিট প্রতিটি খেলোয়াড়ের সঙ্গেই সংযুক্ত করা থাকবে।
বাংলাদেশে এই প্রযুক্তিটি নতুন হলেও আন্তর্জাতিক দল এবং খেলোয়াড়রা এই বিশেষ জিপিএস কিট ব্যবহার করে থাকে। অনুশীলনের সময় উপস্থিত ছিলেন একজন প্রযুক্তিবিদ। খেলোয়াড়দের জিপিএস সেটিং বা এর কার্যকলাপ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে সহায়তার করতে তাকে আনা হয়েছিলো।
এদিকে ম্যাচের মত অনুশীলন দিয়ে আজ থেকে আসন্ন এশিয়া কাপের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে অনুশীলন ক্যাম্প শুরু করলো বাংলাদেশ। হাইব্রিড মডেলে আগামী ৩০ আগস্ট থেকে শুরু হবে এশিয়া কাপ। ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। প্রতিটি গ্রুপের সেরা দু’টি দল সুপার ফোরে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে। সুপার ফোরের সেরা দুই দল ফাইনাল খেলবে।


