সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৪ সালের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহের মধ্যে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন করতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের পক্ষে-বিপক্ষের আন্দোলন যখন মাঠ গরম তখন জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের সঙ্গে বৈঠক করতে যাচ্ছে ইসি। জাতীয় নির্বাচনের দীর্ঘ সময় বাকি থাকলেও আগেভাগেই মাঠের পরিস্থিতি জানতে ও চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে করণীয় ঠিক করতে এই বৈঠক ডাকা হয়েছে বলে জানা গেছে।
আগামী শনিবার (৮ অক্টোবর) নির্বাচন কমিশনে অনুষ্ঠিত হবে গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠক হবে। ওইদিন সকাল ১০টায় আগারগাঁও নির্বাচন ভবন অডিটোরিয়ামে এই সভা অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল এতে সভাপতিত্ব করবেন।
রোববার (২ অক্টোবর) বিকেলে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উপ-সচিব মো. আতিয়ার রহমানের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে ৮ অক্টোবরের সভায় দেশের সব ডিসি-এসপিসহ সংশ্লিষ্টদের উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আহসান হাবিব খান বলেন, সকল প্রকার নির্বাচন পরিচালনায় জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের সংশ্লিষ্টতা ও সম্পৃক্ততা রয়েছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছাড়াও সামনে জেলা পরিষদ এবং সিটি করপোরেশন নির্বাচন আছে, তাই সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে কমিশন মাঠের রিপোর্ট বুঝতে চায়। জেলা পর্যায়ে যারা দায়িত্ব পালন করছেন তাদের চ্যালেঞ্জগুলো জানতে চাই।
সংসদ নির্বাচনে বেশ সময় বাকি থাকলেও চলতি মাসের ১২ তারিখ গাইবান্ধা-৫ আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ১৭ অক্টোবর ৬১জেলা পরিষদে নির্বাচন হবে। পরের মাসে অর্থাৎ ৫ নভেম্বর ফরিদপুর-২ আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়াও চলতি মাসে বেশ কয়েকটি পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদে ভোট হবে।
এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনসহ সকল প্রকার নির্বাচন দক্ষতার সঙ্গে সম্মিলিতভাবে সকল দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের সঙ্গে মতবিনিময়, সমন্বয় সাধন ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে দিক নির্দেশনা প্রদান করাই হবে এই আলোচনার উদ্দেশ্য।
এছাড়াও নির্বাচন পরিচালনা করতে যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে সেগুলো উত্তরণের পথ বের করতে কমিশন মতবিনিময় করবে বলেও জানান কমিশনার আহসান হাবিব।
তিনি বলেন, আমি মনে করি শেষ সময়ে তড়িঘড়ি করে অনেক সমস্যার সমাধান করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। আমরা চাই নির্বাচনে সবাইকে সমান সুযোগ দিতে এবং আস্থার পরিবেশ তৈরি করতে। তাই আমরা যদি সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটু আগে থেকে সব স্তরে কাজ শুরু করি এবং নজরদারি রাখতে পারি তাহলে নির্বাচন পরিচালনায় সাফল্য নিশ্চিত ইনশাআল্লাহ।
গত ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর রাজনৈতিক দল, বিশিষ্ট নাগরিক, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞসহ অংশীজনদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছে কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন কমিশন।
বেশিরভাগ রাজনৈতিক দলের বিরোধিতার মধ্যে আগামী সংসদ নির্বাচনে সর্বোচ্চ দেড়শো আসনে ভোট করতে চায় ইসি।


