জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে সব সেক্টরে। দ্রব্যমূল্য, বাসভাড়ার পাশাপাশি বেড়েছে রিকশাভাড়া, সিএনজি অটোরিকশা ভাড়াও। দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে মোটরসাইকেল ব্যবহার করেন রাজধানীর বড় একটি অংশের মানুষ। যাতায়াত খরচ বাঁচাতে বিকল্প হিসেবে বাইসাইকেলে ঝুঁকছেন অনেকে। এতে গত কয়েকদিনে বিক্রি বেড়েছে বাইসাইকেলের। রাজধানীর বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়।
মালিবাগে বাবার ছোটখাটো পরিবেশকের ব্যবসা দেখাশোনা করেন দুই ভাই বায়েজিদ ও সাজিদ। এতদিন দুজন দুটি মোটরসাইকেলে চলাচল করতেন। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় এখন একটি মোটরসাইকেল বিক্রি করে বাইসাইকেল কিনতে এসেছেন বংশালে।
বায়েজিদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘একটা মোটরসাইকেল দুই ভাই মিলে চালাবো। টুকটাক কাজ এখন বাইসাইকেলে হবে। নাহলে তেলের যে দাম তাতে পথে বসতে হবে।’
দেশের বাইসাইকেলের সবচেয়ে বড় বাজার বংশাল। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর থেকে শুধু বায়েজিদ-সাজিদ নন, অনেকেই আসছেন বাইসাইকেল কিনতে। গত শুক্রবারের পর থেকে বাইসাইকেলের দোকানগুলোতে অন্যান্য সময়ের তুলনায় ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেছে বেশি। দেখেশুনে পছন্দের সাইকেলটি কিনছেন তারা।
এদের অধিকাংশেরই বক্তব্য, অন্যান্য যানবাহনের বিকল্প হিসেবে ব্যবহারের জন্য বাইসাইকেল কিনতে এসেছেন তারা। বিশেষ করে মোটরসাইকেল থাকলেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় এখন থেকে বাইসাইকেলই ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বেশি ক্রেতা। অর্থ সাশ্রয়ী হওয়ায় এখন সাধারণ চাকরিজীবী থেকে শুরু করে যে কারও পছন্দের শীর্ষে রয়েছে পরিবেশবান্ধব এ বাহনটি।
ভারতীয় সাইকেলের ব্র্যান্ড ‘হিরো’র পরিবেশক মজিব’স সাইকেলের কর্ণধার মজিবুর রহমান বলেন, তেলের দাম বাড়ার কারণে বিক্রি কিছুটা বেড়েছে। তবে ২০২০ সালে যখন করোনা পরিস্থিতির কারণে যানবাহন বন্ধ ছিল তখন বাইসাইকেল যে পরিমাণ বিক্রি হয়েছে, এখন তেমনটা নয়। সে তুলনায় সামান্য বেড়েছে। করোনা পরিস্থিতির পর থেকে বেশ কিছুদিন সাইকেল বিক্রিতে দারুণ মন্দা ছিল। এখন সেটা কেটে যাচ্ছে জ্বালানি ইস্যুতে।
পিএসএন/এমআই


