ঈদুল আজহা উপলক্ষে বাড়ি ফিরছে মানুষ। সড়কপথে উত্তরাঞ্চলে তীব্র যানজট হওয়ায় ট্রেনে যেতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে যাত্রীরা। আর তাইতো রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে উত্তরাঞ্চলের মানুষের ঢল বেশি। কিন্তু ঈদে ট্রেনযাত্রা করতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হয় নারী ও শিশুদের। প্রচণ্ড যাত্রীচাপে সবার সাথে পাল্লা দিয়ে উঠতে হয় নারী-শিশুদেরকেও।
শুক্রবার (৮ জুলাই) কমলাপুর স্টেশনে সরেজমিনে দেখা গেছে, সন্ধ্যা থেকেই মানুষের উপচে পড়া ভিড়। সবাই যার যার গন্তব্যের ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছে। রাত পৌনে ৯টার দিকে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করার সাথে সাথেই হুমড়ি খেয়ে পড়ে মানুষ। যে যেভাবে পারছে ট্রেনে উঠছে। কেউবা ধাক্কাধাক্কি করে দরজা দিয়ে আবার কেউ বা জানালা দিয়ে বগিতে প্রবেশ করছে। অনেকেই উঠছে ট্রেনের ছাদে। পাঁচ মিনিটে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় ট্রেনের ছাদ। তিল ঠাঁই নেই ট্রেনের ইঞ্জিনেও।
এসময় অনেক নারীকে ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে উঠতে দেখা গেছে। আবার জানালা দিয়ে ঠেলে ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে দুগ্ধ শিশুদেরকেও। কয়েকজনের সহযোগিতায় বাচ্চাকে জানালা দিয়ে ঢুকিয়ে দিয়ে তারপর মা জানালা দিয়েই ঢুকলেন বগিতে। তিল ধারনের ঠাঁই ছিল না ট্রেনের ভিতরে। তীব্র গরম সহ্য করতে না পেরে বেশ কয়েকজনকে বেরিয়ে আসতে দেখা গেছে।
নারী ও দুধের শিশুদের এভাবে প্রবেশ করতে দেখে পাশ থেকে একজন বলেন ‘যেখানে সাধারণ মানুষরাই ট্রেনে উঠতে পারছে না। সেখানে এত ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনে যাওয়ার কি দরকার। যেতেই যদি হয় যখন চাপ কম ছিল তখন গেলেই তো হয়। আমরা বাঙালি অনেক বিচিত্র।’
এবার ঈদুল আজহা উপলক্ষে যাত্রীদের সুবিধার্থে ৬ জোড়া বিশেষ ট্রেন পরিচালনা করা হচ্ছে। সেগুলো হলো- দেওয়ানগঞ্জ স্পেশাল, চাঁদপুর স্পেশাল ১, ২, বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম (পঞ্চগড়) ঈদ স্পেশাল, শোলাকিয়া স্পেশাল ১, ২।
এদিকে ৬ জুলাই থেকে ঢাকামুখী একতা, দ্রুতযান, পঞ্চগড়, নীলসাগর, কুড়িগ্রাম, লালমনি ও রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনগুলোর বিমানবন্দর স্টেশনে যাত্রাবিরতি দিচ্ছে না। ৯ জুলাই পর্যন্ত এই নিয়ম কার্যকর থাকবে। এছাড়া ১৪ জুলাই পর্যন্ত মিতালি এক্সপ্রেস এবং ৭ থেকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত মৈত্রী এক্সপ্রেস ও বন্ধন এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল করবে না।
পি এস / এন আই


