খোলাবাজারে প্রায় শূন্য নগদ ডলার। একদিন আগেই যা ছুঁয়েছে সেঞ্চুরির ঘর। এদিকে আমদানি ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে ছোট ও নতুন ব্যাংকগুলো।
দেশে দিন দিন বাড়ছে ডলারের সংকট। চাহিদার চেয়ে যোগান কম থাকায় বাড়ছে এই বৈদেশিক মুদ্রার দামও। মঙ্গলবার খোলাবাজার অর্থাৎ মানি এক্সচেঞ্জ হাউজে প্রতি ডলারের জন্য গ্রাহকদের পরিশোধ করতে হয়েছে ১০২ টাকা। একদিন পরই সেটি নামে ৯৮ টাকায়।
এদিকে ডলার সংকটের প্রভাব পড়েছে ব্যাংক খাতে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলারের বিনিময় মূল্য ৮৭ দশমিক পাঁচ শূন্য টাকা নির্ধারণ করলেও বাস্তবে আন্তঃব্যাংকিং লেনদেন হচ্ছে ৯৬ বা ৯৭ টাকায়। পুঁজিবাজারে মতো ডলারের বাজারেও অসাধু চক্র প্রভাব বিস্তার করছে বলে অভিযোগ ব্যাংক নির্বাহীদের।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, করোনা মহামারির সময়ও আমাদের বাজার স্থিতিশীল ছিল। কারণ ওই সময় আমাদের আমদানি চাপ কম ছিল। আবার যেসব আমদানি হয়েছে তার অনেক পেমেন্ট বকেয়া ছিল। যা এখন পরিশোধ করতে হচ্ছে।
সংকট দূরীকরণে চলতি বছরের শুরু থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার বাজারে ছাড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তা সত্ত্বেও যেকোনো অনিয়মের প্রমাণ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস মুখপাত্রের।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, আমদানির চাপের কারণে সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বেশি থাকায় ডলারের দাম বেড়েছে। বাজার স্থিতিশীল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার সরবরাহ করছে। রেটও পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন চাহিদার সুযোগ নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে যেসব ব্যাংক ডলার বিক্রি করছে তাদের বিষয়টি তদারকি করা হবে।
বুধবার (১৮ মে) রাজধানীর ব্যাংক পাড়া মতিঝিল, পল্টন ও বায়তুল মোকাররম এলাকায় এক্সচেঞ্জ (মুদ্রা বিনিময়) হাউসগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খুচরা ডলার ৯৯ টাকা থেকে ১০১ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যদিও কেন্দ্রীয় ব্যাংক আন্তর্জাতিক লেনদেনের এ মুদ্রাটির দাম ৮৭ টাকা ৫০ পয়সা বেঁধে দিয়েছে।
ব্যাংকগুলোও বেশি দামে ডলার বিক্রি করছে এমন অভিযোগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, যেসব ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দরে ডলার বিক্রি করছে, তাদের বিষয়ে অনিয়ম পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
গত ৩০ এপ্রিলের হিসাব অনুযায়ী দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪২ বিলিয়ন ডলারের।
পিএসএন/এমঅাই


