প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার অনুযায়ী ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং নিজ পায়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস।
বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) নগর ভবনের মেয়র হানিফ অডিটোরিয়ামে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস বাজেট বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আগামী অর্থবছরে রাজস্ব আদায় তথা গৃহকর বা হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ের দিকে মনোযোগ দেবে বলে জানিয়ে মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, শত প্রতিকূলতার মাঝেও আমরা ২০২০-২১ ও ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে ‘উন্নত ঢাকা গড়ার ভিত’ রচনা মজবুত করতে সক্ষম হয়েছি এবং তারই ধারাবাহিকতায় আমরা নতুন আরেকটি ধাপে পদার্পণ করতে চলেছি।
মেয়র বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ২০২০-২১ আর্থিক বছরে ৭০৩.৩১ কোটি টাকা রাজস্ব আহরণ করেছে। আজ আমি আনন্দের সাথে জানাতে চাই যে, বিগত অর্থবছরে আমরা রাজস্ব আদায়ে পূর্বেকার সেই মাইলফলক অতিক্রম করে নতুন ইতিহাস গড়তে সমর্থ হয়েছি। ২০২১-২২ অর্থবছরে আমরা করপোরেশনের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৮৭৯.৬৫ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছি।
তাপস বলেন, কয়েকটি কারণে এই অসাধ্য সাধন সম্ভবপর হয়েছে। প্রথমত, ঢাকাবাসী শুধু আমাদের ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেননি, আমাদের ওপর পরিপূর্ণ আস্থাও রেখেছেন। ঢাকাবাসী বিশ্বাস করে, ‘উন্নত ঢাকা’ গড়তে আমরা সক্ষম। দ্বিতীয়ত, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অব্যাহত রয়েছে বিধায় দুর্নীতি কমেছে, ফলে আয় বেড়েছে। তৃতীয়ত, সামষ্টিকভাবে উল্লেখযোগ্য হারে হয়রানি কমেছে এবং সুশাসন নিশ্চিত হয়েছে। ফলশ্রুতিতে ঢাকাবাসীর আস্থা বেড়েছে এবং কর পরিশোধ করার আগ্রহও বেড়েছে। চতুর্থত, ব্যয়ের ক্ষেত্রে পূর্বেকার যে কোনও সময়ের চাইতে জবাবদিহিতা বেড়েছে এবং অপচয় রোধ হয়েছে।
২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে মেয়র বলেন, আমি নির্বাচনকালীন কোনও কর বৃদ্ধি না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। সেই প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে রক্ষা করেছি। আমরা কোনও কর বৃদ্ধি করিনি। বরং আয়ের খাত বৃদ্ধি, কর ফাঁকি রোধ করেছি।
মেয়র বলেন, গত অর্থবছরে বাণিজ্য অনুমতি (Trade Licence) বাবদ রাজস্ব আহরণ হয়েছে ৭৫.৩৪ কোটি টাকা। ২০২০-২১ ও ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাণিজ্য অনুমতি খাতে যথাক্রমে আয় হয়েছে ৭২.৬৭ কোটি ও ৫৫ কোটি টাকা। অতএব, ২০২১-২২ অর্থবছরে পূর্বেকার অর্থবছরের চাইতে এ খাতে আয় বেড়েছে প্রায় ৩ কোটি টাকা এবং বিগত ২ বছরে এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৩৭ শতাংশ।
পি এস / এন আই


