তিস্তা নদীর পানির দাপটে দিশাহারা রংপুরের চার উপজেলার নদীপারের মানুষ। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে উপজেলাগুলোর ৫০ হাজার বাসিন্দা। পানির নিচে গভীর নলকূপগুলো থাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে সেখানে। স্বাস্থ্যাঝুঁকি নিয়ে নদী থেকে পানি খেতে হচ্ছে পানিবন্দিদের।
অন্যদিকে খাবারও সংকট। যেকোনো সময় ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন ধরনের সমস্যায় পড়তে পারে এলাকাবাসী।
পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, আগামী দুই-তিন দিন আরো বন্যা অব্যাহত থাকতে পারে। এতে শঙ্কা বাড়ছে পানিবন্দিদের। এরই মধ্যে দেখা দিয়েছে বাঁধ ভাঙনের। দ্রুত বাঁধ মেরামত করা না হলে নদীভাঙনের হুমকিতে রয়েছে ১৫টি গ্রাম।
রংপুরের বন্যাকবলিত উপজেলাগুলো হলো―গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া,পীরগাছা ও মিঠাপুকুর। তবে সবচেয়ে বেশি পানিতে ভাসছে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় পাঁচটি ইউনিয়ন, কাউনিয়া-৩ ইউনিয়ন, পীরগাছায় দুই ইউনিয়ন ও মিঠাপুকুরে একটি ইউনিয়নের মানুষ। উজানের ঢল তিস্তায় পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বিস্তীর্ণ এলাকার ফলস তলিয়ে গেছে। অনেক জায়গায় রাস্তা ভেঙে গেছে বলে জানা গেছে।
তিস্তায় ক্ষতিগ্রস্ত ওয়াহাব মিয়া বলেন, ‘ভাঙনের ভয়ে ঘর থেক বের হয়ে রাস্তায় বাস করছি। খাওয়াদাওয়া করছি অনেক কষ্ট করে। ছেলে-মেয়ে ও গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়ছি। ‘
গংগাচড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ বলেন, বেড়িবাঁধটির পূর্বের অংশ এরই মধ্যে ভেঙে গেছে। এর ফলে পানি ঢুকে পড়ছে নিম্নাঞ্চলে। তবে খৈখাওয়া অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। যদি এই ভাঙন রোধ করা না যায় তাহলে খৈখাওয়া, পাঙ্গাটারী, মধ্যপাড়া, আমিনগঞ্জসহ আশপাশের অন্তত ১৫টি গ্রামে ভাঙন হুমকির মুখে পড়বে।
রংপুর জেলা প্রশাসক আসিব আহসান জানান, তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে নদীপারের মানুষের সমস্যা হচ্ছে। সরকারিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের ত্রাণ ও শুকনা খাবার দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
পিএসএন/এমআই


