তৃতীয়বারের মতো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ইংরেজি বিভাগে সরস্বতী পূজায় পৌরহিত্য করেছেন একজন নারী শিক্ষার্থী। ২০২৪ সালে তিনি প্রথমবারের মতো দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রজন্ম চত্বরে ইংরেজি বিভাগে পূজার সময় এ ব্যতিক্রমী চিত্র দেখা যায়। পৌরহিত্য করা শিক্ষার্থী হলেন ইংরেজি বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের সমাদৃতা ভৌমিক। বর্তমানে তিনি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক।
এদিকে নারীর পৌরহিত্যের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখছেন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীরা। সুস্মিতা নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘নারী হয়ে পূজায় পৌরহিত্যের বিষয়টি আমরা ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখছি। নারীরা পিছিয়ে থাকবে কেন? বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে আমরা এ জায়গাটায় ব্যতিক্রম। বিদ্যার ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের ভেদাভেদ নেই। পূজার ক্ষেত্রেও থাকা উচিত নয়।’
এ বিষয়ে সমাদৃতা ভৌমিক বলেন, ‘এ নিয়ে তিনবার হলো। আমার বন্ধু-বান্ধব, সিনিয়র-জুনিয়রসহ শিক্ষকদের ইতিবাচক সাড়া পেয়েছি। সবাই সহযোগিতা করেছেন। আর শাস্ত্রীয়ভাবেও কোনো বাধা নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘নারীরা পিছিয়ে থাকবে না। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি শুরু করেছি। এভাবে অন্যরাও শুরু করবে।’
এদিন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম বলেন, ‘সরস্বতী পূজার এই প্রার্থনার মধ্য দিয়ে অর্জিত বিদ্যা কাজে লাগিয়ে শিক্ষার্থীরা আগামীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম উজ্জ্বল করবে।’
এদিন দিনভর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব সরস্বতী পূজা যথাযোগ্য মর্যাদা, ধর্মীয় নিষ্ঠা ও আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জবি কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন পরিষদের আয়োজনে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পৃষ্ঠপোষকতায় এ পূজা অনুষ্ঠিত হয়।
এ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৬টি বিভাগ, ২টি ইনস্টিটিউট এবং নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হলসহ ৩৯টি মণ্ডপে বিদ্যাদেবী সরস্বতীর আরাধনা করা হয়। সকালে ঢাক-ঢোল, কাঁসর, শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনির মাধ্যমে ক্যাম্পাসজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। বাণী অর্চনা শেষে উপাচার্য অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম প্রধান অতিথি হিসেবে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক, জবি কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. সুরঞ্জন কুমার দাসসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।


