সাদা পোশাক বলেন আর সীমিত ওভার ইংলিশদের যেন জুড়ি মেলা ভার। ক্রিকেট যে তাদেরই আবিষ্কার, সাম্প্রতিক সময়ে এটা প্রমাণ করতে যেন উঠে পড়ে লেগেছেন জো-রুট, বেন স্টোকসরা। ২০১৯ বিশ্বকাপ জয়, এরপর থেকেই যেন অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে তারা। গতকাল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তারা দেখালো টি-টোয়েন্টি ব্যাটিংয়ের এক অতিমানবীয় প্রদর্শনী।
ব্রিস্টলে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৬ উইকেট হারিয়ে স্কোর বোর্ডে ২৩৪ রানের বিশাল সংগ্রহ পায় ইংল্যান্ড। ব্যাট হাতে আগুন ঝরান মঈন আলি ও জনি বেয়ারস্টো। দু’জনেই পেয়েছেন ফিফটির দেখা।
কুড়ি ওভারের ফরম্যাটে এটাই ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোর, ঘরের মাঠে সর্বোচ্চ। ত্রিস্টান স্টাবস ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালিয়েও প্রোটিয়াদের রক্ষা করতে পারেননি পরাজয়ের হাত থেকে। ৪১ রানে ম্যাচ জেতে নেয় জস বাটলারের দল।
স্বাগতিকদের বড় সংগ্রহের পথে ঠেলে দিয়েছিলেন অবশ্য অধিনায়ক জস বাটলার। মাত্র ৭ বল ছিলেন ক্রিজে, তাতেই দু’টি করে চার-ছক্কায় করে ফেলেন ২২ রান। আরেক ওপেনার জেসন রয় অবশ্য ৮ রান করে আউট হয়ে যান দ্রুতই।
এরপর ধ্বংসযজ্ঞ শুরু করেন ডেভিড মালান ও বেয়ারস্টো। ১১ ওভার ৫ বলে তারা যোগ করেন ১১২ রান। ১ চার ও ৪ ছক্কায় ৪৩ রান করে মালান আউট হলে ভাঙ্গে এই জুটি।
এরপর বেয়ারস্টোকে সঙ্গে নিয়ে ঝড় অব্যাহত রাখেন মঈন। ১৬ বলে ফিফটি ছুঁয়ে গড়েন ইংল্যান্ডের ব্যাটারদের মধ্যে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড। গত বছর জুলাইয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৭ বলে ফিফটি করে আগের রেকর্ডটি গড়েছিলেন লিয়াম লিভিংস্টোন।
৫২ রানে মঈন আউট হলে ভাঙে মাত্র ৩৭ বলে ১০৬ রানের জুটি। এর আগেই আন্দিলে ফেলুকওয়ায়োর এক ওভারেই ৫টি ছক্কা হাঁকান বেয়ারস্টো-মইন।
৩৬ বলে পঞ্চাশ ছোঁয়ার পর শতকের দিকেই ছুটছিলেন বেয়ারস্টো। তবে ইনিংসের শেষ ওভারে লুঙ্গি এনগিডির শিকার হয়ে ৫৩ বলে ৯০ রান করে সাজঘরে এই ডানহাতি। যেখানে চার মাত্র ৩টি হলেও ছক্কার মার ছিল ৮টি। বেয়ারস্টোকে ফিরিয়ে ৫ উইকেটের স্বাদ পান এনগিডি।
২৩৫ রানের পাহাড় টপকাতে নেমে ৩ রানে প্রথম ও ৭ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু দলের বিপর্যয় সামাল দেন রেজা হেনড্রিকস ও হেনরিক ক্লাসেন। তৃতীয় উইকেটে ৬৫ রানের জুটি গড়েন দুইজন।
ক্লাসেন ২০ রানে আউট হলে ভাঙে এই পার্টনারশিপ। দশম ওভারে হেনড্রিকসকে বিদায় করেন মঈন। প্রোটিয়া ওপেনার ৩৩ বলে ৯ চার ও ১ ছক্কায় করেন ৫৭ রান।
এরপর প্রায় একাই প্রতিরোধ গড়েন স্টাবস। ১৯ বলে পঞ্চাশ ছুঁয়ে দলকে লড়াইয়ে রাখেন তিনি। তবে তাকে খুব একটা সঙ্গ দিতে পারেননি এই সিরিজে দলকে নেতৃত্ব দেওয়া ডেভিড মিলার। ১৮৪ রানের মাথায় স্টাবস ২৮ বলে ২টি চার ও ৮ ছক্কায় সর্বোচ্চ ৭২ রান করে আউট হন। শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেট হারিয়ে ১৯৩ রানের বেশি করতে পারেনি সফরকারীরা। এতে ৪১ রানে জয় নিয়ে ৩ ম্যাচ সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ইংল্যান্ড।
পি এস / এন আই


