
বৃহৎ জ্বালানি কোম্পানিগুলো যখন বিপুল মুনাফা করছে তখন দরিদ্র দেশগুলোর মানুষদের পাতে এক বেলা খাবার জোটানো দুঃসহ হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। কাতারের দোহায় স্বল্পোন্নত দেশগুলোর পঞ্চম সম্মেলনে উপস্থিত নেতাদের সামনে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
রোববার শুরু এই সম্মেলনে ৪০টির বেশি স্বল্পেন্নোত দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান অংশ নিচ্ছেন। এর আগে শনিবার (৪ মার্চ) গুতেরেস বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জরুরি সেবাসমূহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুষ্টচক্রে আটকা পড়া গরিব দেশগুলোর সাহায্যে ধনী দেশগুলোর প্রতি বছর ৫০০ বিলিয়ন ডলার দেওয়া উচিত।
গুতেরেস বলেন, কোনো কিছু না করেও দরিদ্র দেশগুলোর সামনে নানামুখী চ্যালেঞ্জ হাজির হয়েছে। এতে করে এসব দেশের অনেক ক্ষতি হচ্ছে। অথচ এর ক্ষতিপূরণ হিসেবে সামান্য তহবিলই পাচ্ছে তারা। এই তহবিল একটি বালতিতে এক ফোঁটা পানি দেওয়ার মতো। বৃহৎ জ্বালানি কোম্পানিগুলো যখন বিপুল মুনাফা করছে তখন দরিদ্র দেশগুলোর মানুষদের পাতে এক বেলা খাবার জোটানো হয়ে উঠেছে দুঃসহ।
জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, বর্তমান যে বিশ্বব্যবস্থা বা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সেটা ধনী দেশগুলোর তৈরি। ধনী দেশগুলোন স্বার্থেই এ ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে।
সাধারণত প্রতি ১০ বছর পর স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) এই সম্মেলন হয়। সবশেষ এই সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল ২০২১ সালে। তবে করোনা মহামারির কারণে দুবার তা পিছিয়ে দেওয়া হয়। এলডিসিভুক্ত ৪৬ দেশের মধ্যে এবারের সম্মেলনে অংশ নিয়েছে ৪৪টি দেশ। এবারের সম্মেলনে নেই দুই দেশ মিয়ানমার ও আফগানিস্তান। কারণ, এই দুই দেশের সরকারকে জাতিসংঘ এখনো স্বীকৃতি দেয়নি। এ ছাড়া বৃহৎ অর্থনীতির কোনো দেশ সম্মেলনে অংশ নেয়নি।
সর্বগ্রাসী সুদহার ও পঙ্গু করে দেওয়ার মতো জ্বালানির দাম নির্ধারণ করে জ্বালানি কোম্পানি এবং ধনী দেশগুলো গরিব দেশগুলোর ‘টুঁটি চেপে ধরেছে’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘(গরিব) দেশগুলো যখন সীমিত সম্পদের সংকটে, ঋণের দায়ে জর্জরিত ও এখনো করোনা মহামারির কারণে ইতিহাসের সবচেয়ে বৈষম্যের ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে, তখন এসব দেশের পক্ষে অর্থনৈতিক উন্নয়ন অনেক চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে।


