দস্যুমুক্ত সুন্দরবন টেকসইকল্পে ও মৎস্যজীবিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে র্যাব-৬। শনিবার দুপুর থেকে লং রেঞ্জ পেট্রোলের মাধ্যমে একটি বিশেষ আভিযানিক দল ‘এলিট টাইগার্স’ ট্রলারযোগে সুন্দরবনে প্রবেশ করে। সুন্দরবনের শরণখোলা, জয়মনি, বড়ইতলা, আন্ধারমনিক, মৃগামারি এলাকাসহ বনের শ্যালা নদীর বিভিন্ন শাখায় অভিযান চালাবে র্যাবের আভিযানিক দলটি। এছাড়া অভিযানের জন্য র্যাবের আরেকটি দলকে একটি স্পীড বোট ও বেঙ্গল টাইগার্স নামে অপর একটি ট্রলারসহ পূর্ণপ্রস্তুতি সহকারে স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে।
সবশেষ গত ১৫ ডিসেম্বর একটি নব্য বনদস্যুদল সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের বেড়ীর খাল ও হরমাল খাল এলাকা থেকে ১৫ জেলেকে মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ করে। অপহরনের ৬ দিন পর দস্যুদের কবল থেকে অপহৃত জেলেরা ছাড়া পায়। র্যাব ও কোস্ট গার্ডের সহায়তায় তারা বাড়িতে ফিরেছেন বলে র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
র্যাব-৬ এর কোম্পানি কমান্ডার পুলিশ সুপার মোঃ বদরুদ্দোজা জানান, সুন্দরবনে বিশেষ এই অভিযানের মাধ্যমে সা¤প্রতিক নব্য বনদস্যুদের চিহ্নিত করে তাদের আইনের আওতায় আনা, দস্যুমুক্ত সুন্দরবনের স্থায়িত্ব রক্ষার জন্য নৌ-পুলিশ, বনবিভাগ এবং কোস্ট গার্ডের সাথে সমন্বয় সাধন, মাঠ পর্যায়ে সুন্দরবনে অভিযান পরিচালনার স্থান রেকি করা, আত্মসমর্পণকৃত বনদস্যুদের সাথে সমন্বয় করা, সুন্দরবনে র্যাবের উপস্থিতি ও কার্যক্রম সম্পর্কে জানান দেয়া। এছাড়া জরুরি প্রয়োজনে বনদস্যুদের বিরুদ্ধে ঝটিকা অভিযান পরিচালানা করা, মৎস্যজীবিদের নিরাপত্তা বিষয়ক তথ্য সংগ্রহ ও নিরাপত্তার আশ্বস্থতা প্রদান এবং দরিদ্র মৎস্যজীবিদের শীতবস্ত্র বিতরণসহ মানবিক সহায়তা প্রদান করা হবে।
র্যাব-৬ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোসতাক আহমেদ বলেন, সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে র্যাব অনেক ঘাম ঝরিয়েছে, কষ্ট করেছে। যে কোন মূল্যে সুন্দরবন যেন দুস্যুমুক্ত থাকে, দস্যুদের পুনরাবৃত্তি যেন ওই এলাকাতে না ঘটে সেজন্য আমরা দৃঢ়ভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রী যেহেতু ঘোষণা দিয়েছেন সুন্দরবন দস্যুমুক্ত হবে, সেই মূলমন্ত্রকে নিয়ে আমরা অভিযানগুলো পরিচালনা করছি।
তিনি বলেন, বিগত দিনগুলোতে ১০/১৫ জন অপহৃত হয়েছিল। আমাদের ৪/৫টি টহল টিম এবং গোস্ট গার্ডের সমন্বয়ে অভিযান পরিচালনা করেছিলাম। তখন তারা ভয় পেয়ে ছেড়ে দিয়েছিল। অনেকে মুক্তিপণ দিয়ে আসছিল, আবার অনেকে পরবর্তীতে আমাদের আনাগোনা দেখে চলে আসছিল। বিষয়টি মিডিয়াতে আসছে এবং যারা জেলে তারাও ভয়-ভীতি পাচ্ছে। আমাদের অভিযানের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সুন্দরবন এলাকা দস্যু মুক্ত করা। আমরা যে তথ্য পেয়েছি তারই আলোকে কাউকে যদি আটক করতে পারি তাও করা হবে। আর জেলেদের অভয় দেওয়া যে আমরা আছি আপনাদের পাশে। কোন দুস্কৃতিকারি বা জলদস্যু যেন ক্ষতি করতে না পারে র্যাব সব সময় বলবৎ থাকবে। তারা এমন কোন পরিস্থিতিতে না পড়ে সেই উদ্দেশ্যেই আমরা অভিযান শুরু করেছি।
সুন্দরবনে পূর্বের কোন দস্যুবাহিনী নেই জানিয়ে তিনি বলেন, বিচ্ছিন্ন দুষ্টলোক বা জেলেদের মধ্য থেকে কেউ কেউ আধিপত্য বিস্তারের জন্য বা অপহরণ করে টাকা পয়সা আদায়ের জন্য দস্যু হওয়ার পরিকল্পনা করছে। নব্য জলদস্যু বলা যেতে পারে। আর পুরাতন যারা তাদের সাথে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রয়েছে আমাদের। তাদের মামলা, পুনর্বাসনসহ অন্যান্য বিষয়গুলো আমরাই দেখভাল করি। তাদের দুঃখ-কষ্টসহ অন্যান্য বিষয় বিশেষ করে র্যাব-৬ দেখে থাকে। আমাদের কাছে যে তথ্য রয়েছে সেই অনুযায়ী বিচ্ছিন্ন কিছু লোকজন র্যাবের চোখ ফাঁকি দিয়ে কিছু করা যায় কিনা। কিন্তু আমরা কোন অবস্থাতেই সেটি করতে দিব না।
তিনি বলেন, আপাতত ৩/৪ দিন অভিযান পরিচালনা করবো। প্রয়োজনে আরও সময় বাড়িয়ে নেবো। সুন্দরবন সার্বক্ষণিক আমাদের নজরদারীর মধ্যে থাকবে। যাতে করে জেলেরা যারা জীবিকা নির্বাহের জন্য যায় তারা যেন নির্বিঘেœ তাদের কার্যকলাপ করতে পারে।

