সর্বনিম্ন মূল মজুরি ২০ হাজার টাকা ঘোষণাসহ ১০ দফা দাবি আদায়ে দেশব্যাপী সব ধরনের নৌযানে লাগাতার ধর্মঘটের কারণে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। কিন্তু বারবার আলটিমেটাম দিলেও এবার শুরু হওয়া কর্মসূচি থেকে আপাতত সরে আসার কথা ভাবছেন না নৌশ্রমিকদের সংগঠনের নেতারা।
নূন্যমত মজুরি বাস্তবায়নসহ কমপক্ষে তিনটি দাবির বিষয়ে তারা কঠোর অবস্থানে থাকার কথা বলছেন।
রোববার (২৭ নভেম্বর) ধর্মঘটের প্রথম দিন রাজধানীর সদরঘাটের পাশে বাংলাবাজার এলাকায় বিক্ষোভ করেন নৌ-যান শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের নেতাকর্মীরা। হুঁশিয়ারি দিয়ে তারা বলেন, সমাধানের পথে না গেলে উদ্ভুত পরিস্থিতির দায় সরকার এবং মালিককে নিতে হবে।
নৌ-শ্রমিকদের বিক্ষোভ সমাবেশ সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. মানিক শরীফ মাস্টারের সভাপতিত্বে ও কেন্দ্রীয় সদস্য মো. রিয়াজ উদ্দিন রুবেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়।
বক্তারা বলেন, ন্যায়সঙ্গত দাবিতে চলমান শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত চলছে। গতকাল নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে নৌযান শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা ও জানানো হচ্ছে। অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবি জানাই।
বক্তারা আরও বলেন, ২০১৬ সালের মজুরি দিয়ে বর্তমান বাজার দরে চলা সম্ভব নয়। শ্রমিকের দাবি যৌক্তিক। এমতাবস্থায় সরকার মালিকদের ভাষায় কথা বললে পরিস্থিতি ভালো হবে না। সমাধানের পথে না হাটলে উদ্ভুত পরিস্থিতির দায় সরকার এবং মালিককে নিতে হবে।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক প্রকাশ দত্ত, বাংলাদেশ লঞ্চ লেবার অ্যাসোসিয়েশন বাল্কহেড শাখার সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম, ঢাকা আঞ্চলিক কমিটির যুগ্ম সম্পাদক আবদুর রহমান মাস্টার, মো. ইব্রাহিম মাস্টার, মো. মামুনুর রশিদ রওশন মাস্টার প্রমুখ।
যে দশ দাবিতে ধর্মঘটে শ্রমিকরা
১. নৌযান শ্রমিকদের নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র ও সার্ভিস বুক দেওয়া।
২. শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ।
৩. খাদ্য ভাতা ও সমুদ্র ভাতার সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কন্ট্রিবিউটরি প্রভিডেন্ট ফান্ড ও নাবিক কল্যাণ তহবিল গঠন করা।
৪. দুর্ঘটনা ও কর্মস্থলে মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরণ ১০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা।
৫. চট্টগ্রাম থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল সরবরাহে দেশের স্বার্থবিরোধী প্রকল্প বাস্তবায়নে চলমান কার্যক্রম বন্ধ করা।
৬. বালুবাহী বাল্কহেড ও ড্রেজারের রাত্রিকালীন চলাচলের ওপর ঢালাও নিষেধাজ্ঞা শিথিল।
৭. নৌ-পথে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও ডাকাতি বন্ধ করা।
৮. ভারতগামী শ্রমিকদের ল্যান্ডিং পাস দেওয়াসহ ভারতীয় সীমানায় সব প্রকার হয়রানি বন্ধ করা।
৯. চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য পরিবহন নীতিমালা ১০০ শতাংশ কার্যকর করে সব লাইটার জাহাজকে সিরিয়াল মোতাবেক চলাচলে বাধ্য করা।
১০. চরপাড়া ঘাটে ইজারা বাতিল ও নৌ-পরিবহন অধিদফতরের সব ধরনের অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা বন্ধ করা।
নৌযানে ভরপুর সদরঘাট ফাঁকা
নৌ-শ্রমিকদের ধর্মঘটের কারণে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে যাত্রী ও শ্রমিকদের পদচারণায় মুখর সদরঘাট একদম ফাঁকা পড়ে আছে। শনিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া কর্মসূচিকে ঘিরে রোববার সদরঘাটে কোনো লঞ্চ দেখা যায়নি। পুরো ফাঁকা সদরঘাট।
শুধু ঢাকার সদরঘাটই নয়, চট্টগ্রাম, মোংলা বন্দর, বরিশাল লঞ্চ টার্মিনালেরও একই অবস্থা। সব জায়গায় জাহাজ ও লঞ্চ নোঙ্গর করে রাখা আছে।
নৌ-যান শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের সদস্য আতিকুল ইসলাম বলেন, শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি নির্ধারণ ও ভারতগামী শ্রমিকদের ল্যান্ডিং পাস দেওয়াসহ ভারতীয় সীমানায় সব প্রকার হয়রানি বন্ধ করার দাবিতে আমরা আপাতত অনড় আছি। যৌক্তিক সমাধান না হলে কর্মসূচি চলবে।


