নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আজ বৃহস্পতিবার ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করতে যাচ্ছে বিএনপি। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠিত হয়।
দলটির নেতারা বলেছেন, প্রতিষ্ঠার পর বিভিন্ন সময়ে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের কারণে সংকটে পড়েছে বিএনপি। জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ৯ বছর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন করে ১৯৯১ সালে ক্ষমতায় আসে বিএনপি। ওয়ান-ইলেভেনের সরকার এবং পরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার ধারাবাহিকভাবে বিএনপিকে নিঃশেষ করার যত ধরনের অপকৌশল আছে তার সবই প্রয়োগ করেছে এবং করছে। শত নির্যাতনের পরও চলমান আন্দোলনে বিএনপিপ্রাণ তৃণমূলের নেতাকর্মীরা ফিনিক্স পাখির মতো জেগে উঠেছে। এ আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটিয়ে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়াই আমাদের অঙ্গীকার।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘বাংলাদেশ কঠিন সময় পার করছে। আমরা একটি ক্রান্তিকাল অতিবাহিত করছি। আওয়ামী লীগ সরকার ১৯৭৫ সালে একবার গণতন্ত্রকে গলা টিপে হত্যা করেছিল, ২০০৮ সালে ওয়ান-ইলেভেনের সরকারের সঙ্গে আঁতাত করে ক্ষমতায় এসে এক যুগের বেশি সময় ধরে তারা গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে দেশকে স্বৈরাচারী রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের সুসংগঠিত করে আন্দোলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটানো হবে। ২০২৩ সালেই হারিয়ে যাওয়া গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনা হবে।’
কর্মসূচি : দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে একগুচ্ছ কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি। আজ বৃহস্পতিবার ভোর ৬টায় নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশে দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন, দুপুর ১২টায় দলের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে ফাতেহা পাঠ ও পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং বেলা ৩টায় নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হবে। শুক্রবার আলোচনা সভা হবে। একইভাবে দেশের সব জেলা, মহানগরসহ সব ইউনিট কর্মসূচি গ্রহণ করবে। দিবসটি উপলক্ষে এরই মধ্যে পোস্টার প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে ক্রোড়পত্র প্রকাশিত হবে।
গণমাধ্যমে দেওয়া এক বাণীতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আজকের এ মহান দিনে দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের গতিশীল কার্যক্রম এবং নিবেদিত হয়ে কাজ করা এক অনন্য প্রেরণার সৃষ্টি করেছে। এ ঘোর দুর্দিনে জনগণকে সংগঠিত করার বিকল্প নেই। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালিয়ে হয়রানির খড়গ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। খালেদা জিয়া প্রতিহিংসার শিকার হয়ে প্রায় পৌনে পাঁচ বছর বন্দি জীবনযাপন করছেন। এ ক্রান্তিকালে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে জুলুমের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত বিএনপি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের কারণে বিভিন্ন সময়ে দুর্যোগের মধ্যে পড়েছে। জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর প্রথম ক্রান্তিকাল আসে দলের জন্য। খালেদা জিয়া বিএনপির হাল ধরেন। স্বৈরাচার এরশাদ বিএনপিকে ভাঙার চেষ্টা করেছে। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি ৯ বছর আন্দোলন করে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে। এরপর ওয়ান-ইলেভেনের ফখরুদ্দিন-মইনউদ্দিনের সরকার দ্বিতীয়বার বিএনপি ভাঙার চেষ্টা করেছে। সে সরকারের ধারাবাহিকতায় বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ১৪ বছর ধরে আমাদের দলের নেতাকর্মীদের গুম, খুন করে। শীর্ষ নেতা থেকে তৃণমূল নেতা, এমন কেউ নেই যার নামে মামলা নেই। তবু তৃণমূলের নেতাকর্মীরা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে কর্মসূচি পালন করছেন।’
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন করছে বিএনপি। দলটির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান বলেন, ‘নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকার বিএনপিকে ভাঙার চেষ্টা করছে। বিএনপি নির্বাচনে না গেলে দলের একটি অংশের নেতাদের নিয়ে নির্বাচন করতে চাইছে। কিন্তু সারা দেশে দলের কর্মসূচিতে যেভাবে নেতাকর্মীরা নামতে শুরু করেছে তাতে দীর্ঘদিন ঘরে উঠে যাওয়া নেতাদের অনেকে রাজপথে নামতে শুরু করেছে।’
দমনপীড়ন চালিয়ে বিএনপিকে ধ্বংস করা যাবে না জানিয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘নানা চড়াই-উতরাই পার হয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বিএনপি। আমাদের অনেক সমস্যা মোকাবিলা করতে হচ্ছে। নেতাকর্মীদের খুন, গুম করে, নির্যাতন চালিয়ে বিএনপিকে পিষ্ট করার চেষ্টা সফল হয়নি, হবেও না। চলমান আন্দোলনের কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের ঢল নেমেছে। জনগণের সম্পৃক্ততা বাড়ছে। ১৪৪ ধারার মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পরও জনগণকে আটকে রাখতে পারছে না সরকার।’
পিএসএন/এমআই


