দেশে মাদক ব্যবহারকারীর আনুমানিক সংখ্যা প্রায় ৮২ লাখ। এদের বড় একটি অংশ তরুণ, আর উল্লেখযোগ্য সংখ্যার মাদক গ্রহণ শুরু হয় ১৮ বছরের আগেই। এমন তথ্য উঠে এসেছে এক জাতীয় গবেষণায়।
আজ রোববার রাজধানীর শাহবাগে একটি সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের কনফারেন্স হলে ‘বাংলাদেশে মাদক অপব্যবহারকারী ব্যক্তিদের সংখ্যা, ধরণ ও সংশ্লিষ্ট কারণসমূহ’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অর্থায়নে গবেষণাটি পরিচালিত হয়।
গবেষণার পরিধি
গবেষণায় দেশের ৮ বিভাগে ১৩ জেলা ও ২৬ উপজেলা থেকে ৫ হাজার ২৮০ জনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এতে ল কোয়ান্টিটেটিভ ও কোয়ালিটেটিভ-উভয় পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত মাদক গাঁজা
গবেষণার প্রধান গবেষক বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ডিন অধ্যাপক ডা. সাইফ উল্লাহ মুন্সী বলেন, দেশে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত মাদক হলো গাঁজা। এর পরের অবস্থানে রয়েছে ইয়াবা, হেরোইন, ফেনসিডিল ও কোডিনজাত কাশি সিরাপ।
তিনি আরও বলেন, ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণকারীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি।
শহরে বেশি, গ্রামেও বাড়ছে মাদক
গবেষণার তথ্যে দেখা যায়, শহরাঞ্চলে মাদক ব্যবহারকারীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি হলেও গ্রামাঞ্চলে এর বিস্তার দ্রুত বাড়ছে। সবচেয়ে বেশি মাদক ব্যবহারকারী রয়েছে ঢাকা বিভাগে, আর সর্বনিম্ন বরিশাল বিভাগে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলা ও বড় শহরের আশপাশের এলাকাগুলোতে মাদক ব্যবহার ও সরবরাহের ঝুঁকি বেশি বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়।
কিশোর বয়সেই শুরু
গবেষণায় উঠে এসেছে, ৬০ শতাংশের বেশি মাদক ব্যবহারকারী ১৮ বছরের আগেই প্রথমবার মাদক গ্রহণ করে। মাদক গ্রহণের প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে বন্ধুদের প্রভাব, কৌতূহল, পারিবারিক অশান্তি ও মানসিক চাপ।
চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে ঘাটতি
গবেষণায় বলা হয়, মাদকাসক্তদের বড় একটি অংশ কখনোই চিকিৎসা বা পুনর্বাসন সেবা নেয় না। আর যারা নেয়, তাদের অনেকেই প্রয়োজনীয় ও ধারাবাহিক সেবা পায় না। এর ফলে পুনরায় মাদক গ্রহণে ফিরে যাওয়ার ঝুঁকি থেকেই যায়।
জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে দেখার তাগিদ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাদক সমস্যা শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা। প্রতিরোধের পাশাপাশি চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও সামাজিক পুনঃঅন্তর্ভুক্তির ওপর জোর দিতে হবে। একই সঙ্গে কিশোর ও তরুণদের লক্ষ্য করে সচেতনতামূলক কর্মসূচি জোরদার করার আহ্বান জানান তারা।
গবেষকেরা মনে করছেন, এই গবেষণার ফলাফল জাতীয় পর্যায়ে কার্যকর মাদক নিয়ন্ত্রণ নীতি প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ।


