খুলনা-৪ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও বিএনপি’র তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল তাঁর নির্বাচনী ইশতেহারে মোট ৭৪টি উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক অঙ্গীকার অন্তর্ভুক্ত করেছেন। ইশতেহারে ভৈরব নদীর উপর দ্বিতীয় সেতু নির্মাণ করে খুলনা শহরের সঙ্গে রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়া উপজেলার সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন, অসমাপ্ত নগরঘাট ও রেলিগেট সেতু নির্মাণ কাজ সম্পন্ন, আতাই ও ভৈরব নদীর ভাঙন রোধ ও টেকসই বাঁধ নির্মাণ, পরিত্যক্ত পাট গোডাউনে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প স্থাপন, জলাবদ্ধ জমির পানি নিষ্কাশনের মাধ্যমে চাষযোগ্য করা, দেউলা খেয়াঘাট সংস্কার, আলহাজ্ব সারোয়ার খান ডিগ্রি কলেজ সরকারিকরণ, খেলার মাঠ সংস্কার ও যুব সমাজকে খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করা, স্টার জুট মিল চালুকরণ, তেরখাদার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন, ভট্টাচার্য খেয়াঘাটে ফেরি ব্যবস্থা, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিতকরণ, হাজীগড়াম মিনি স্টেডিয়াম আধুনিকীকরণ, কবি কৃষ্ণচন্দ্র ইনস্টিটিউটকে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্তকরণ, নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ধর্মীয় ও সামাজিক স¤প্রীতি নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করা হয়।
গতকাল শনিবার সকালে রূপসা উপজেলার আইচগাতী ইউনিয়নে তাঁর প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ইশতেহার ঘোষণা করেন।
ইশতেহার পাঠকালে তিনি বলেন সমৃদ্ধ ও নিরাপদ খুলনা-৪ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে আমি আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। নদী ও প্রকৃতি বেষ্টিত আমাদের প্রিয় রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়া উপজেলা বিভিন্ন পেশাজীবী, বিভিন্ন স¤প্রদায় ও সাধারণ মানুষের বসভূমি। এ সকল লক্ষ্যকে সামনে রেখে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের লোকস্মৃতি বিজড়িত দিঘলিয়া উপজেলা, কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার, নাট্যকার শচীনন্দ্রনাথ সেন গুপ্ত, কণ্ঠশিল্পী যুথিকা রায়, ব্রিটিশ বিরোধী বিপ্লবী সেনানী রসিকলাল দাস, প্রদ্যুল-চন্দ্র সেন, শহীদ অতুল সেন, শহীদ অনুজা চরণ দাস প্রমুখ খ্যাতিমান ব্যক্তিত্বের জন্মভূমি এই দিঘলিয়া উপজেলাকে আদর্শ উপজেলায় রূপান্তর করাই হবে আমার মূল উদ্দেশ্য। খুলনা-৪ আসন তথা রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়া উপজেলাগুলোকে আদর্শ উপজেলায় রূপান্তর করাই আমার মূল উদ্দেশ্য।
তিনি জানান, কৃষকদের জন্য বিনামূল্যে বীজ-সার ও কীটনাশক, তেরখাদায় মিনি স্টেডিয়াম ও ক্রীড়া প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন, পর্যাপ্ত পাকা ড্রেন নির্মাণ, নারীর উন্নয়নে শিক্ষা ও কর্মসংস্থান, দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে রূপান্তর, চাঁদা-মাদক-সন্ত্রাসমুক্ত এলাকা গঠন, নন্দনপুর-রহিমনগর এলাকায় স্থায়ী সেতু নির্মাণ, রূপসায় ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন ও প্রতিটি ঘরে সুপেয় পানি সরবরাহ, রূপসা ফেরিঘাট টোলমুক্ত করা এবং আধুনিক বাসস্ট্যান্ড ও যানবাহন স্ট্যান্ড নির্মাণের প্রতিশ্র“তি দেওয়া হয়।
ইশতেহারে আরও উল্লেখ করা হয় সেনের বাজার ও পূর্ব রূপসা এলাকায় আধুনিক শপিংমল নির্মাণ, পালেহাট বাজার আধুনিকায়ন, রূপসায় ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল ও মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ, সকল বন্ধ খাল পুনঃখনন, আঠারোবাঁকি নদী পুনঃখনন, সুইচগেট নির্মাণ, নদীভাঙন এলাকায় টেকসই বাঁধ, কেন্দ্রীয় মসজিদ ও কেন্দ্রীয় মন্দির নির্মাণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পর্যায়ক্রমে সরকারি করণ, রূপসায় ইপিজেড স্থাপন এবং আইটি ও ফ্রিল্যান্সিং ট্রেনিং সেন্টার স্থাপনের কথা।
তরুণদের জন্য গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট ও ডিজিটাল মার্কেটিং প্রশিক্ষণ, ইউনিয়ন পর্যায়ে ডিজিটাল লার্নিং সেন্টার, মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর ন্যায়পরায়ণতার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা, তেরখাদার জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল-নদী খনন, পানের বরজ ও মৎস্য চাষ উন্নয়ন, অর্থনৈতিক জোন ঘোষণা, দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ প্লান্ট, পর্যটন কেন্দ্র ও শিশু পার্ক, তেরখাদা পৌরসভায় উন্নীতকরণ, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ এবং এ্যাম্বুলেন্স সুবিধা বৃদ্ধির অঙ্গীকার করা হয়।
এছাড়া কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, দুর্নীতিমুক্ত তেরখাদা গঠন, সড়ক ৪ লেনে উন্নীতকরণ, ব্রিজ নির্মাণ, সৌর প্যানেল স্থাপন, যুবসমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর, ইভটিজিং-বাল্যবিবাহ-মাদক দমনে জিরো টলারেন্স, শিক্ষার মানোন্নয়ন, আবাসন ব্যবস্থা, হাট-বাজার আধুনিকায়ন, ছিন্নমূল ও অসহায়দের আবাসন, গুচ্ছগ্রাম স¤প্রসারণ, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, বৃক্ষরোপণ ও মাছের পোনা অবমুক্তকরণ, উদ্যোক্তাদের সহজ ঋণ, সাইক্লোন সেন্টার নির্মাণ, যানবাহনের স্বতন্ত্র স্ট্যান্ড স্থাপন এবং তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার রোধসহ মোট ৭৪টি ইশতেহার বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপি’র সদস্য রবিউল ইসলাম রবি, জেলা যুগ্ম-আহবায়ক মোল্লা খায়রুল ইসলাম, জেলা সদস্য জি এম কামরুজ্জামান টুকু, অধ্যাপক মনিরুল হক বাবুল, শেখ আব্দুর রশিদ, আব্দুস সালাম, আছাফুর রহমান, আনিসুর রহমান, আশরাফুল ইসলাম নুর, এম এ সালাম ও আরিফুর রহমান আরিফ, রূপসা উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক মোল্লা সাইফুর রহমান, তেরখাদার বিএনপি’র আহবায়ক চৌধুরী কাউসার আলী, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আতাউর রহমান রুনু, খুলনা কৃষক দলের সভাপতি মোঃ আবু সাঈদ, জেলা যুবদল নেতা গোলাম মোস্তফা তুহিন, জেলা ওলামা দলের আহবায়ক মাওলানা ফারুক আহমেদ, বিএনপি নেতা শেখ আবু সাঈদ, মিকাইল বিশ্বাস, সমাজসেবক জাকির হোসেন জমাদ্দার, শরীফ নাঈমুল ইসলাম, শারমিন আক্তার আঁখি, সেতারা সুলতানা, গোলাম ফারুক, শেখ আবু সাঈদ, ফখরুল ইসলাম চৌধুরী, শরিফ নাইমুল ইসলাম, আবুল কাশেম, রেজাউল ইসলাম রেজা, মোঃ রয়েল, খালেদা পারভিন সিনথিয়া, শিহাবুল ইসলাম সিহাবসহ নেতৃবৃন্দ।

