নওগাঁর খুচরা বাজারগুলোতে সরকার নির্ধারিত নতুন দরে সয়াবিন তেলের সরবরাহ এখনও স্বাভাবিক হয়নি। কিছু কিছু দোকানে নতুন দরের সয়াবিন তেল পাওয়া গেলেও অধিকাংশ দোকানগুলোতে আগের দরেই সয়াবিন তেল বিক্রি করতে দেখা গেছে। যেসব দোকানে নতুন দরে বিক্রি হচ্ছে তারা বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৮৫ টাকা লিটারেই বিক্রি করছেন। এছাড়া ২ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ৩৯৮ টাকা থেকে কমিয়ে করা হয়েছে ৩৭০ টাকা। আর ৫ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ৯৮০ টাকা থেকে কমিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে ৯১০ টাকা।
অন্যদিকে দাম কমানোর পর প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি করা হচ্ছে ১৬৬ টাকায়। এছাড়া প্রতি লিটার খোলা পাম তেলের বিক্রি হচ্ছে ১৫২ টাকায়।
আর যেসব দোকানে নতুন দরের সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে না, তারা ১৯৫-২০০ টাকা লিটার বিক্রি করছেন। গত ২১ জুলাই থেকে নতুন দর কার্যকর করার কথা বলেছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। কিন্তু নানা অজুহাতে খুচরা দোকানগুলোতে নতুন দরের সয়াবিন তেল পাওয়া যায়নি। তাই বাড়তি মূল্যেই বিক্রি হয়ে আসছিল সয়াবিন তেল।
এদিকে নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পরও নওগাঁর খুচরা বাজারের অধিকাংশ দোকান ও পাড়া-মহল্লার দোকানগুলোতে আগের দামেই তেল বিক্রি হচ্ছে। দোকানিরা বলছেন, আগের দামের তেল দোকানে থাকার কারণে সেগুলো পুরোপুরি বিক্রি হয়নি। যার কারনে আগের দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে।
শহরের পৌর খুচরা বাজারে সয়াবিন তেল কিনতে এসেছেন রাজিয়া সুলতানা নামের এক গৃহিনী। এসময় রাজিয়া তিনটি দোকান ঘুরেও নতুন দামে কোথাও তেল পেলেন না। এসময় তিনি বলেন, এত মানুষের বসবাস, এতগুলো দোকান তবুও অনেক দোকানি বলছেন নতুন দামের তেল নেই। আগের দামে হলে তেল নিতে পারেন। আমার মনে হয় এক ধরনের প্রতারণা করছেন, তারা বেশি দামে তেল বিক্রির জন্য। এগুলো প্রশাসনের দেখা উচিত।
শহরের মুক্তির মোড়ে খুচরা বাজারে তেল কিনতে এসেছেন মেবারক হোসেন নামের এক ক্রেতা। এসময় নতুন দামে তেল না পেয়ে আগের দামে ২০০ টাকা লিটারে এক লিটার তেল কিনলেন।
কথা হলে মোবারক বলেন, কিছু বলার নেই, কেউ মানে না ঠিকমত নিয়ম। বাজার মনিটরিং করা দরকার। এখন তেল রেখেই যদি বলে নতুন দামের তেল নাই, কি করে বুঝবো বলেন।
কবির হোসেন নামের আরেক ক্রেতা বলেন, ৪টি দোকান ঘুরে নতুন দামে তেল পেলাম। যে দোকানে যাই তারা বলে তেল নাই, আবার অনেক দোকানি বলছেন, আগের দামে তেল আছে। এগুলোর মানে কি। নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে, তবুও সেই দামে সয়াবিন তেল কিনতে ঘুরতে হচ্ছে, একের পর এক দোকানে। এভাবে হয়রানি করার মানেটা কি। এসব যাদের দেখভাল করার দরকার তাদের কার্যকরি পদক্ষেপ আশা করছি।
শহরের খুচরা বাজারের দোকানি কল্লোল কুমার বলেন, দোকানে আগের দামের তেল কিছু মজুদ আছে, যার কারণে সেগুলো আগের দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে। নতুন দামের তেল দোকানে রাখিনি। যদি ক্রেতা তেল না নেয় তবে আমরা বিক্রি করব না।
মুক্তির মোড় এলাকার রাজন স্টোরের মালিক রাজন আলী বলেন, আমাদের দোকানে আগের দামের তেল ছিল, যা বিক্রি করছি আগের রেটেই। সেগুলো বিক্রি হয়ে গেলে নতুন দামের তেল তুলবো দোকানে। তারপর সরকার বেঁধে দেওয়া দামেই আমরা বিক্রি করব। আমরা নতুন দামে তেল আগের দামে বিক্রি করছি না। কোনো ক্রেতাকেও কোনোরকম হয়রানি করছি না।
শহরের মুক্তির মোড়ের নজরুল কালাম স্টোরের মালিক কালাম হোসেন বলেন, দোকানে আপাতত কোনো সয়াবিন তেল নেই। নতুন দামের কিছু তেল তুলেছিলাম যা বিক্রি হয়ে গেছে। সরকার নির্ধারিত দামেই তেল বিক্রি করছি আমি। ফ্রেস, বসুন্ধরা, তীর, রূপচাঁদা এসব ব্র্যান্ডের সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৮৫টাকা দরে বিক্রি করছি। আর আমরা পাইকারি হিসেবে ক্রয় করে থাকি ১৮১ টাকা করে প্রতি লিটার।
শহরের কেডির মোড়ের খোকন স্টোরের মালিক খোকন হোসেন বলেন, আমার দোকানে আগের দামের তেল এখনও আছে, তাই সেই দামেই বিক্রি করছি। প্রতি লিটার তেল ২০০ টাকা লিটারে বিক্রি করছি। নতুন দাম নির্ধারণ হয়ছে তবে নতুন দামের তেল দোকানে নেই বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের নওগাঁ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শামীম হোসেন বলেন, যদি কোনো ক্রেতা দোকানে তেল রাখার পরও বেশি দামে বিক্রি করে। আবার নতুন দামের সয়াবিন তেল আগের দামে বিক্রি করে থাকে, তাহলে সেটা অন্যায়। যদি কোনো ক্রেতা আমাদের অভিযোগ দেয়, অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া আমরা খুব শিগগীরই অভিযান পরিচালনা করবো।
পি এস / এন আই


