
ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য নীলফামারীর সৈয়দপুর অনেক আগে থেকে প্রসিদ্ধ হলেও অনেকের কাছে ‘রেলের শহর’ হিসেবে বেশি পরিচিত। এ রেলের শহর সৈয়দপুরে রয়েছে দেশের বৃহত্তম রেলওয়ে কারখানা।
এছাড়া রেল ইঞ্জিনের খুচরা যন্ত্রাংশ তৈরিসহ ইঞ্জিন মেরামতের জন্য দিনাজপুরের পার্বতীপুরে স্থাপন করা হয় রেলওয়ের একমাত্র কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানা। এই দুই কারখানায় দীর্ঘদিন ধরে পড়ে আছে ইন্দোনেশিয়া থেকে আট কোটি টাকায় আমদানি করা চারটি নন এসি প্রথম শ্রেণির কোচ। এতে একদিকে যেমন রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার, অন্যদিকে অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে কোচগুলো।
তিন বছর আগে করোনাকালীন সময়ে রেলবহর থেকে আধুনিক এ কোচগুলো খুলে রাখা হয়। পরে আবার যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল শুরু হলেও ওই কোচগুলো আর রেলবহরে যুক্ত হয়নি। এর দুটি আছে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার ওয়াগন শপে ও দুটি পার্বতীপুর কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানার রেল ইয়ার্ডে।
সরেজমিন দেখা গেছে, দুটি প্রথম শ্রেণির নন এসি কোচ পড়ে আছে ওয়াগন শপের ইয়ার্ডে। কোচ দুটিতে জং ধরছে। আশপাশে জঙ্গলে ভরে গেছে। কোচগুলোর ভেতরে ভয়াবহ অবস্থা।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে বাংলাদেশ রেলওয়ে ব্রডগেজ লাইনের (বড় লাইন) জন্য ৫০টি কোচ ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করে। আধুনিক ওই কোচগুলো ইন্দোনেশিয়া রেলওয়ে কারখানা পিটি ইনকায় তৈরি। ওই বহরে ছিল শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) স্লিপার কোচ, এসি চেয়ার কোচ, নন এসি চেয়ার কোচ ও ট্রেনের বিদ্যুৎ সরবরাহ করার পাওয়ার কার। কোচগুলোর সঙ্গে ছিল চারটি নন এসি প্রথম শ্রেণির স্লিপার কোচ। এগুলো দিয়ে চিলাহাটি-ঢাকা রুটে চলাচলকারী নীলসাগর এক্সপ্রেসসহ চারটি ট্রেন চালু করা হয়। নন এসি প্রথম শ্রেণির স্স্নিপার কোচগুলো চারটি ট্রেনে যুক্ত ছিল। কিন্তু করোনাকালে রেল চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে কোচগুলো রেলবহর থেকে খুলে রাখা হয়। পরে আবার যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল শুরু হলেও কোচগুলো আর রেল বহরে যুক্ত হয়নি।
সূত্রটি আরও জানায়, আমদানি করা এর একটি কোচের মূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা। কোচগুলো আবার মেরামত করে রেল বহরে যুক্ত করা যেতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলের এক কর্মচারী বলেন, কোচগুলো এভাবে পড়ে থাকায় আমাদের কষ্ট হচ্ছে। এরই মধ্যে এসব কোচ থেকে খুলে নেওয়া হয়েছে চাকা। যা মেরামতের জন্য অন্য কোচে ব্যবহার হয়েছে।
সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোখছেদুল মোমিন বলেন, কোচগুলো এভাবে তিন বছর ধরে পড়ে আছে। অথচ এসব রেলবহরে যুক্ত হলে অনেক টাকা রাজস্ব আয় হবে।
লালমনিরহাটের বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী (ডিএমই) মো. তাসরুদ জামান বলেন, কিছু কারিগরি ত্রুটি রয়েছে ওই কোচগুলোতে। একটি কোচের সঙ্গে আরেকটি কোচ যুক্ত করতে আমাদের দেশে যে সংযোগের ব্যবস্থা রয়েছে, ওই কোচগুলোতে তার ভিন্নতা রয়েছে। যেমন এর দু’টি স্ক্রু কাপলিং ও দু’টিতে রয়েছে সিভিসি ব্যবস্থা। কাজেই সব ট্রেনের সঙ্গে এগুলো যুক্ত করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ধরনের ত্রুটি অপসারণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হবে।
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) সাদেকুর রহমান বলেন, নন এসি কোচগুলো ভালো অবস্থাতেই আছে। সংশ্লিষ্টরা চাহিদাপত্র দিলেই সামান্য মেরামত করে কোচগুলো রেলওয়ে ট্রাফিক বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব হবে।


