প্রতিবেশী মিয়ানমারের মর্টারশেল ও গোলাবারুদ নিক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছে স্থানীয় প্রশাসন। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার আজ সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করে এ ব্যাপারে ঘোষণা দিতে পারেন।
বান্দরবান জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন পারভীন তিবরিজী এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বান্দরবান সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে দেশটির সেনাবাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে গোলাগুলি চলছে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে। এরই মধ্যে মিয়ানমার থেকে ছোড়া গোলা বাংলাদেশ সীমান্তের অভ্যন্তরে পড়ে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান সংঘর্ষে ব্যবহার করা হচ্ছে হালকা ও ভারী অস্ত্র। বিস্ফোরণের শব্দে কম্পিত হচ্ছে নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম, তুমব্রু, বাইশ ফাঁরি, কোনা পাড়াসহ কয়েকটি সীমান্ত লাগোয়া গ্রাম। এতে স্থানীয়দের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ফাটল ধরেছে মাটি দিয়ে তৈরি ঘরের দেয়ালে।
অতি প্রয়োজন ছাড়া এসব এলাকার মানুষ ঘর থেকে বাইরে বের হচ্ছেন না। ইতোমধ্যে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের প্রায় সব স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের স্কুলে শিক্ষা-কার্যক্রম চালু থাকলেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম। শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে ভয় পাচ্ছে। অভিভাবকরাও তাদের যেতে দিচ্ছেন না।
এছাড়া নিরাপদ ও স্বাভাবিকভাবে পরীক্ষার্থীরা যাতে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে সেজন্য ঘুমধুম উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষাকেন্দ্র সরিয়ে কক্সবাজারের উখিয়া কুতুপালং নেওয়া হয়েছে।
ঘুমধুম ইউপির ৫ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. আনোয়ার হোসেন জানান, সীমান্তের কাঁটাতারের ৯০০ ফুটের মধ্যে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তার স্বার্থে সম্ভাব্য করণীয় বিষয়ে রোববার (১৮ সেপ্টেম্বর) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। আজ জেলা প্রশাসক সীমান্ত পরিদর্শনে আসবেন। আলোচনাসাপেক্ষে তাদের সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালমা ফেরদৌস জানান, সীমান্তে প্রায় ৪০০ বাংলাদেশি বসবাসকারীর নিরাপত্তার জন্য সম্ভাব্য করণীয় সম্পর্কে জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে জেনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
বান্দরবান জেলা প্রশাসক ইয়াছিন পারভিন তিবিরিজী জানান, স্থানীয় বাংলাদেশিদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


